ফ্যামিলি কার্ড, বড় প্রকল্পে বহু সংকট

সাব্বির আহমেদ

জাতীয়

দল ক্ষমতায় আসা কিংবা নিজে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনেক আগে থেকেই ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা করেন তারেক রহমান। যথারীতি প্রধানমন্ত্রী

2026-10-17T00:19:30+00:00
2026-10-17T00:19:30+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
ফ্যামিলি কার্ড, বড় প্রকল্পে বহু সংকট
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৯ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
দল ক্ষমতায় আসা কিংবা নিজে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনেক আগে থেকেই ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা করেন তারেক রহমান। যথারীতি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠে নামেন। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত আট মাসে দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে চোখে পড়ার মতো কাজ শুরু করে। 

বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে সশরীরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক অসংগতি-অসহযোগিতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে হযবরল অবস্থা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সরবরাহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকটি এলাকায় গড়িয়েছে সংঘাত। 

এ ঘটনায় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এমনকি সরকারি দল বিএনপির নেতাকর্মীরাও নিজেদের ক্ষোভ ঝারেন। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও পড়েন চাপের মুখে। এই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন, খণ্ডিত কাঠামো, অর্থায়ন, সমন্বয় ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ দেখছেন সমাজ বিশ্লেষকরা। নতুন সরকারের নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সতর্ক ও হোম ওয়ার্কের পরামর্শ তাদের। 

একই সঙ্গে সেবা প্রদানের ধাপগুলোতে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা এবং উপকারভোগী নিবন্ধন, যাচাই, অর্থ প্রদান, সচেতনতা ও অভিযোগ নিষ্পত্তিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার— এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যার অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ফ্যামিলি কার্ড গত মার্চে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়। এ কর্মসূচিতে নির্বাচিত পরিবারের একজন নারী সদস্য মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা বা বছরে ৩০ হাজার টাকা ডিজিটালভাবে পাবেন। প্রথম ধাপে লক্ষ্য ৪১ লাখ পরিবার। যোগ্যতা নির্ধারণ হবে হালনাগাদ প্রক্সি-মিনস টেস্টিংয়ের (পিএমটি) মাধ্যমে। পরে স্থানীয় যাচাই ও ডিএসআরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। পরিবারের অবস্থার উন্নতি হলে কর্মসূচি থেকে বের করে নতুন যোগ্য পরিবারকে যুক্ত করার ‘গ্র্যাজুয়েশন’ ব্যবস্থাও থাকবে।

অর্থাৎ বিএনপি সরকার গঠনের তিন সপ্তাহ পর গত ১০ মার্চ বনানীর কড়াইলে দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হলো। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে আবেগতাড়িত, তেমনই তার সরকার ও দল বিএনপির জন্য একটি ঐতিহাসিক, একটি আবেগের দিন। 

এই কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে বিএনপি বহু বছর ধরে পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যাপারে তার দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের এক মাসের কম সময়ের মধ্যে তারা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেন।


এরপর থেকে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত করতে থাকে সরকার। পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের পর ১৬ আগস্ট দেশের বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে সরকার। প্রথম ধাপে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন। এরপর চার বছরে এক কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। শুরুতেই ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ অনুযায়ী হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে জিটুপি পদ্ধতির মাধ্যমে মাসিক নগদ সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে মাঠপর্যায়ে তথ্য অন্তর্ভুক্তিতে কিছু অনিয়ম ও বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে হট্টগোল করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। ইউএনও ও সমাজসেবা অফিস ভাঙচুর ঘেরাওসহ কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করেন বিক্ষুব্ধরা। চাপের মুখে কয়েক জায়গায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়। 

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন ইউএনও সময়ের আলোকে বলেন, আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কাজ করতে চাই না। এটা আমরা বিভাগীয় কমিশনার স্যারদের মিটিংয়ে জানিয়েছি। সরকার মাঠ পর্যাযে কোনো পরামর্শ কিংবা মতামত না নিয়ে এত বড় কাজ ধরিয়ে দিয়েছে। যেখানে রাজনৈতিকভাবে চরম অসহযোগিতা করা হচ্ছে কর্মকর্তাদের।

অনেক জায়গায় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে নাজেহাল করা হয়েছে। যার কোনো বিচার হয়নি। উল্টো কর্মকর্তাদের কাজ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষা থেকে শুরু থেকে প্রত্যাকটি ধাপে নানা ধরনের চাপের মধ্যে যেতে হয়েছে। অনেক জায়গায় পরীক্ষা বাতিল হয়েছে, এখনও প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়নি। 

এক পর্যায়ে সরকার ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবেন, (অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত), সেই বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার— যে পরিবারে প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছেন। রয়েছে হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। শূন্য দশমিক ৫ একর বা তার কম জমির মালিক এই সুবিধা পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় পড়বে না আট শ্রেণির মানুষ।

গত ১২ অক্টোবর সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে যোগ্য নারী পরিবারপ্রধানদের ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হবে। 

তিনি বলেন, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক (পাইলটিং) কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। 

এর মধ্যে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাইলটিং কার্যক্রমে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলে জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক বলছে, বর্তমান বিশ্বে বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান বিএনপি সরকারের ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রকল্প একটি কাযর্করী পদক্ষেপ।

সমালোচনা হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে : প্রতিমন্ত্রী পুতুল 

এ প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল সময়ের আলোকে বলেন, কিছু অসংগতি আমরা লক্ষ করেছি। আমরা যখনই কোনো অভিযোগ বা তথ্য পাচ্ছি, সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করছি। আমাদের উদ্দেশ্য, যার প্রকৃত প্রয়োজন তাকেই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। সেই অনুযায়ী তালিকা পরিবর্তনের কাজ চলছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে সরাসরি সুবিধাভোগীর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। 

শুধু ভাতা নয়, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি স্বাবলম্বী করে তোলাই সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। 
তবে তিনি এ-ও মনে করেন, সরকারের এই গ্রহণযোগ্য ও প্রশংসনীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশি-বিদেশি নানা বাধা চোখে পড়ছে। অনেকে নেতিবাচকভাবে তা উত্থাপন করছেন। সমালোচনা করছেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।


প্রশাসনের অসহযোগিতা রয়েছে : ড. ফখরুল ইসলাম 

সমাজ বিশ্লেষক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসনের বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, আমি মনে করি ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। তবে এর বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রশাসনের অসহযোগিতা, স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, বিশৃঙ্খলা ও স্বজনপ্রীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা এবং প্রযুক্তির অভাব এবং তথ্যগত ভুল নিরসন এ প্রকল্প বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারকে অবশ্যই উপরোক্ত সমস্যাগুলো দূরীকরণে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে মাঠ প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ফ্যামিলি কার্ড পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে : বিশেষজ্ঞ আমিনুল মোহায়মেন

সামাজিক সুরক্ষা ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ আমিনুল মোহায়মেন মনে করেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার, নারী ও শিশু, খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টিসংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি ধীরে ধীরে একীভূত করা যেতে পারে। সব পরিবারকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হলেও নগদ সহায়তা থাকবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য। প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য সহায়তা, মাতৃত্বকালীন সহায়তা ও শিক্ষা সহায়তাও যুক্ত হতে পারে। এভাবে ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি নগদ ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা না হয়ে পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   ফ্যামিলি কার্ড  প্রকল্প  সংকট  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: