দেশের ১৫টি খাতের ৭৬৭টি ডোমেইন পর্যালোচনা করে ১৮ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর রেকর্ড এবং অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ জনের লগইন তথ্য ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে থাকার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে ব্রেইন স্টেশন ২৩ পিএলসির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সাইবার স্টেশন। প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণে জানা যায়, উন্মুক্ত নাগরিক তথ্যের সবচেয়ে বড় অংশ সরকারি সেবা খাতের। তবে তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে।
বৃহস্পতিবার সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস উপলক্ষে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের তথ্য ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ও তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে আয়োজিত এ সেমিনারে ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, সরকার ও শিক্ষাঙ্গনের প্রায় ১৫০ জন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবী অংশ নেন। সাইবার স্টেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সাইবার স্টেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উন্মুক্ত নাগরিক তথ্যের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি সরকারি সেবা খাতে। অন্যদিকে প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তাদের পাওয়া পরিসংখ্যান সর্বনিম্ন হিসাব; প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
সেমিনারে সাইবার স্টেশনের সাইবার নিরাপত্তা সেবাবিষয়ক প্রধান মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম বলেন, যে ঝুঁকি দেখা যায় না, তা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। কোন প্রতিষ্ঠানের কী তথ্য উন্মুক্ত হয়েছে, তা শনাক্ত করতে সহায়তা করাই তাদের লক্ষ্য। এতে সাইবার অপরাধীরা তথ্যের অপব্যবহার করার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর নির্বাহী পরিচালক এম জে ফেরদৌস বলেন, ২০ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সাইবার স্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে। দেশের সাইবার নিরাপত্তার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের নিজস্ব সাইবার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তাদের অবদান কাজে লাগলে সবার পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সাইবার স্টেশন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তার হয়েছে। তার মতে, এসব প্রযুক্তি সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরোধ ও মোকাবিলার কৌশল তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রযুক্তিবিদ মুনির হাসান ডার্কওয়াচের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর তৈরি ডার্কওয়াচের মতো দেশীয় প্রযুক্তিগত উদ্যোগ এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগকে আরও সমৃদ্ধ করা গেলে বাংলাদেশের সামগ্রিক সাইবার নিরাপত্তায় তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সেমিনারে বাংলাদেশের ডার্ক ওয়েবে তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার ঝুঁকি ও তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পরামর্শক অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহরিয়ার রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম সচিব (আইসিটি) ইমরান খান এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় তথ্যের অপব্যবহার ঠেকাতে এবং সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান হামিদা কাজী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আজাদ ও একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক ড. রাজেশ পালিত, গ্রামীণ ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি ও গ্রামীণফোনের সাবেক সিআইও ড. লুৎফর রহমান, মবিলের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) শাফকাত মাহমুদ ফাহমি এবং স্ট্রিম কানেক্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্নেল সোহেল রানা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে