চালের দামে এবার তেলের অজুহাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় কয়েক ধরনের চালের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ ও ধানের বাড়তি

2026-10-17T02:28:41+00:00
2026-10-17T02:28:41+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
চালের দামে এবার তেলের অজুহাত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৮ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় কয়েক ধরনের চালের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ ও ধানের বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। এদিকে টমেটো, শিমসহ কয়েক ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। তবে পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া ও কাঁচামরিচের দামে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে। তেল ও চিনির দাম স্থিতিশীল থাকলেও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৩ থেকে ৬৫ টাকায়। গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল ৬২ থেকে ৬৩ টাকা। মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়ে হয়েছে ৮৫ টাকা। পাইজাম চালের দাম ৫৮ থেকে বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। তবে মোটা চালের দাম বাড়েনি। গুটি স্বর্ণাসহ অন্যান্য মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ট্রাকভাড়া ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি ধানের দাম বৃদ্ধি ও মৌসুমি প্রভাবেও চালের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে গত এক সপ্তাহে ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় বিভিন্ন ধরনের চালের দাম বেড়েছে।

মালিবাগ বাজারের চাল ব্যবসায়ী চিশতি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ট্রাকভাড়া বেড়েছে। এর প্রভাব চালের দামেও পড়ছে। কয়েক ধরনের চালের প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

সবজির বাজারে স্বস্তি নেই : রাজধানীর কাঁচাবাজারে শিম, ফুলকপি ও মুলার মতো আগাম শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে এসব সবজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া ছাড়া অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকা বা তার বেশি। কোথাও কোথাও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, কচুমুখি ও পটোল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও কাঁকরোলের দাম কেজিতে ১০০ টাকা। আগাম মুলা ও ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। শিমের কেজি ১৬০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। দেশি শসার দামও কেজিতে ১০০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি আকারভেদে প্রতি পিস ৭০ টাকা।

সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে কাঁচামরিচের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। প্রতি পিস লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা।

সবজি কিনতে আসা রবিউল আলম বলেন, ‘বাজারে টমেটো ১৮০ টাকা কেজি। দেশি শসা কিনেছি ১০০ টাকা কেজি দরে। শিম কিনতে হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি।’

মুরগি ও মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন নেই : মুরগির বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারভেদে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও রয়েছে চড়া। কোথাও প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, আবার কোথাও ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগির বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কোনো সপ্তাহে ১০ টাকা কমে, আবার পরের সপ্তাহে বাড়ে। সোনালি মুরগির দাম ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে রয়েছে। শুক্রবার তিনি প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি করছেন।

এদিকে ডিমের দাম ডজনে প্রায় ১০ টাকা কমেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। চারটি ডিমের দাম ৫০ টাকা। ডিম বিক্রেতা মাসুম আল হাসান বলেন, এখন ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন।
মাছের বাজারে দামের ভিন্নতা : মাছের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তবে মাছের ধরন, আকার ও জীবিত বা মৃত অবস্থার ওপর দাম নির্ভর করছে।

বাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩๐ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের রুইয়ের দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজিতে।

এ ছাড়া ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কই ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পোয়া মাছের দাম ২৬০ টাকা এবং শোল মাছের দাম ৭০০ টাকা। চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের মতো কিছু মাছ কিনতে কেজিতে হাজার টাকার বেশি খরচ হতে পারে।

মাছ বিক্রেতা আযাদ বলেন, মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে। শুক্রবার প্রতি কেজি রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা ও পাঙাশ ২৩০ টাকায় বিক্রি করছেন। শুক্রবার ক্রেতার চাপ বেশি থাকায় কিছু মাছের দাম তুলনামূলক বেশি থাকে বলেও জানান তিনি।

চাপে সীমিত আয়ের মানুষ : দীর্ঘদিন ধরে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। বাজারে নতুন কিছু শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম এখনও নাগালের বাইরে। কিছু সবজির কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। ডিমের দাম কিছুটা কমলেও মাছ ও মুরগি কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো মিল নেই। প্লেটে আমিষ রাখা এখন বিলাসিতা। দুয়েকটি সবজির দাম কমলেও সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি ও তেলাপিয়া-পাঙাশ মাছের দামও চড়া। ফলে সীমিত আয়ে সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।’

বিক্রেতাদের আশা, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লে আগামী দিনে কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে। তবে আপাতত বাজারের উচ্চমূল্য নিয়ে ক্রেতাদের উদ্বেগ কাটছে না।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   চাল  তেল  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: