বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মা নিহিত থাকে তার মুক্ত বুদ্ধি, সহনশীলতা ও গবেষণার পরিবেশে। ক্ষমতার পরিবর্তন যদি কেবল মুখের বদল ঘটায় কিন্তু প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা ও সংঘাতের সংস্কৃতি জিইয়ে রাখে, তবে তা পুরো জাতির মেধার ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দেবে। একটি স্থিতিশীল, জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবিলম্বে সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির বলয় থেকে মুক্ত করা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও মুক্ত জ্ঞানচর্চার পরিবেশ ফিরে আসবে— এমনটিই ছিল সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের সর্বজনীন প্রত্যাশা। বিগত সময়ে ক্যাম্পাসে গড়ে ওঠা লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি, ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনিক স্বৈরাচারের অবসানের স্বপ্ন দেখেছিলেন সবাই।
কিন্তু পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান চিত্র গভীর হতাশা ও উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একের পর এক উপাচার্য অবরুদ্ধকরণ, সংঘর্ষ, ক্লাস পরীক্ষা বয়কট এবং শিক্ষকদের লাগাতার কর্মবিরতি চলছে।
ক্যাম্পাসের এই অব্যাহত অস্থিরতা কেবল আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়; বরং উপাচার্য নিয়োগের পদ্ধতিগত গলদ, রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে শিক্ষক রাজনীতির সমীকরণ পরিবর্তন এবং বিচারের নামে ক্ষমতা বলয় তৈরির টানাপোড়েনের এক সামগ্রিক প্রতিফলন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষ প্রশাসনিক পদ অর্থাৎ উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষই সাম্প্রতিক অস্থিরতার অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে দেখা যাচ্ছে। চুয়েটের সংকটটি এর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেয় সরকার। এই সিদ্ধান্ত চুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তারা অনির্দিষ্টকালের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করে।
পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয় যখন নবনিযুক্ত উপাচার্য শিক্ষার্থীদের তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এর জবাবে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রবেশপথে পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উপাচার্যকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। শুধু তা-ই নয়, চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও অসহযোগের ডাক দেয়, যার ফলে দীর্ঘ ২০ দিনের বেশি সময় ধরে সেখানে ক্লাস ও অন্তত ১৫টি পরীক্ষা বন্ধ থাকে।
একই ধরনের বিরোধ দেখা গেছে গাজীপুরের ডুয়েটেও। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের একাংশ ও শিক্ষক নেতারা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের স্পষ্ট যুক্তি ছিল— ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, যার অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা ও প্রশাসনিক কাঠামো সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ভিন্ন। তাই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব আসা উচিত। এই বিরোধের জের ধরে ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি চলাকালে উপাচার্যপন্থি ও বিরোধীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে ১৫ থেকে ২৩ জন আহত হন এবং প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশীজনদের আস্থা ও বাস্তবতাকে বিবেচনায় না নিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা কীভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
ক্যাম্পাসগুলোর অস্থিরতার দ্বিতীয় বড় ফ্রন্টটি তৈরি হয়েছে শিক্ষক রাজনীতি ও জুলাই আন্দোলনের জবাবদিহিতা ঘিরে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, নিপীড়ন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি দলান্ধ আনুগত্য প্রদর্শনের অভিযোগে বহু শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেট দীর্ঘ পর্যালোচনার পর ১২ জন শিক্ষক ও ১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি, বেতন অবনমন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেখানে উদ্দেশ্য ছিল যাতে কোনো অপরাধী দায়মুক্তি না পায় এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি অবিচারের শিকার না হন।
কিন্তু অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই চরম রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অস্থিতিশীলতার জন্ম দিয়েছে। দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অন্তত পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৮ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) জুলাইবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে প্রায় ৩০০ শিক্ষকের একটি তালিকা উপাচার্যের কাছে জমা দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সবচেয়ে তীব্র সংঘাত দেখা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সেখানে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমসহ কয়েকজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিগত সরকার আমলের সব শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ পর্যালোচনায় কমিটি হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’ আওয়ামীপন্থি ‘নীল দল’র কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং আন্দোলনের বিরোধিতাকারী ২৩১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। বিপরীতে নীল দল একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ‘মব-সংস্কৃতি’ বলে দাবি করেছে এবং ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী তাদের মুক্ত রাজনৈতিক মতপ্রকাশের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত বলে আখ্যা দিয়েছে।
এই সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ— শিক্ষা ও গবেষণাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও বিধিমালার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে, যাতে বিচার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার হাতিয়ারে রূপ না নেয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচার অক্ষুণ্ন থাকে।
ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগের মূল চেতনা ছিল ভয়ভীতিহীন ও দখলদারিত্বমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা; কিন্তু সেখানেও পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির ছায়া দেখা যাচ্ছে। চুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল যখন দেখা যায়, নবনিযুক্ত উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভাঙেন এবং তাদের সঙ্গে নিয়েই কার্যালয়ে বসেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং শিক্ষক সমিতি এটিকে বহিরাগত ও দলীয় ক্যাডারদের নিয়ে ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
একইভাবে ডুয়েটেও উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও বহিরাগতদের যুক্ততা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৪ অক্টোবর রাতে দায়িত্ব পালনকালে চারজন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জনের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে। ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনেও পুলিশ কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ছাত্ররাজনীতি যদি তার গুণগত চরিত্র না বদলে কেবল এক দলের জায়গা অন্য দল দখলের মাধ্যমে আধিপত্য ও ভয়ের রাজত্ব বজায় রাখতে চায়, তবে ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফেরা সুদূরপরাহত।
ক্যাম্পাসে ক্ষমতার লড়াই ও পদোন্নতিকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত খেসারত সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীকেই দিতে হয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাটি এর বড় প্রমাণ। সেখানে নতুন পদোন্নতি নীতিমালা বাতিল ও ২০১৫ সালের পুরোনো নীতিমালায় পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষকরা লাগাতার কর্মবিরতি ও শাটডাউন পালন করায় পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। চুয়েটেও উপাচার্য সংকট ও শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতির কারণে টানা ২০ দিনের বেশি ক্লাস বন্ধ ছিল এবং ১৫টি পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে এভাবে মহামূল্যবান সময় নষ্ট হওয়া কেবল সেশনজটই বাড়ায় না, বরং তাদের মানসিক ও পেশাগত ভবিষ্যৎকে গভীর অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে চলমান এই বহুমুখী অস্থিরতা নিরসনে এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—
১. উপাচার্য নিয়োগে স্বচ্ছ নীতিমালা : রাজনৈতিক আনুগত্যের বদলে মেধা, সততা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সার্চ কমিটির মাধ্যমে শীর্ষ পদে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।
২. আইন ও বিধির শাসন প্রতিষ্ঠা : বিগত জুলাই আন্দোলনের হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে, যাতে তা কোনো অবস্থাতেই ঢালাও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ‘উইচ হান্ট’-এ পরিণত না হয়।
৩. পেশিশক্তি ও মব কালচারের অবসান : দলীয় ছাত্র সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সাংবাদিকদের ওপর হামলার দ্রুত আইনি বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্যাম্পাসে জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মা নিহিত থাকে তার মুক্ত বুদ্ধি, সহনশীলতা ও গবেষণার পরিবেশে। ক্ষমতার পরিবর্তন যদি কেবল মুখের বদল ঘটায় কিন্তু প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা ও সংঘাতের সংস্কৃতি জিইয়ে রাখে, তবে তা পুরো জাতির মেধার ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দেবে। একটি স্থিতিশীল, জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবিলম্বে সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির বলয় থেকে মুক্ত করা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
লেখক : সাহিত্যকর্মী
*মতামত লেখকের নিজস্ব
সময়ের আলো/জেডআই