পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ও ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে ঘুসের অভিযোগ

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রাশেদুল ইসলাম ও ইনস্পেক্টর শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক গ্রাহক হয়রানি

2026-10-17T16:38:30+00:00
2026-10-17T16:39:28+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ও ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে ঘুসের অভিযোগ
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম  আপডেট: ১৭.১০.২০২৬ ৪:৩৯ পিএম
কমলনগর জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। ছবি : সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রাশেদুল ইসলাম ও ইনস্পেক্টর শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক গ্রাহক হয়রানি ও ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ সংযোগসহ যেকোনো সেবার আবেদন অনুমোদন করতে এই দুই কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট হারে ঘুস দিতে বাধ্য হতে হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

​স্থানীয় গ্রাহক ও চর মাটিন এলাকার ভুক্তভোগী মো. কামাল জানান, অফিসে অনলাইনে মিটার বা সেবার আবেদন জমা দেওয়ার পর ফাইল পর্যায়ক্রমে অফিসের কম্পিউটার থেকে ইনস্পেক্টর ও ডিজিএমের টেবিলে পৌঁছায়। কিন্তু টাকা না দিলে মাস পেরিয়ে গেলেও ফাইল আর এগোয় না।

অভিযোগ রয়েছে, চর কালকিনি ইউনিয়নের চর লরেন্স এলাকার ভুক্তভোগী আবু কালামসহ একাধিক গ্রাহক জানান, প্রতি মাসে অফিসে আসা প্রায় ৩ থেকে ৪ শত ফাইলের প্রতিটি অনুমোদনের জন্য ইনস্পেক্টরকে ৫০০ টাকা এবং ডিজিএমকে ৫০০ টাকা করে মোট ১ হাজার টাকা ঘুস দিতে হয়।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, এই অনৈতিক লেনদেন ও দালালির মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় রয়েছে ‘মিঠু’ ও ‘ফয়সাল’ নামের দুই তথাকথিত ইলেকট্রিশিয়ান। তাদের মাধ্যমে আসা ফাইলগুলো দ্রুত অনুমোদন পেলেও সাধারণ গ্রাহকদের ঘুরতে হয় দিনের পর দিন।

​এদিকে, আরইবি (REB) বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ৯ জন নিবন্ধিত ইলেকট্রিশিয়ান এই অবৈধ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দালালদের মাধ্যমে ফাইল পাসের অনৈতিক প্রতিযোগিতার কারণে মাঠপর্যায়ে বৈধ ইলেকট্রিশিয়ানদের হেয় হতে হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব ও শৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটছে, অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকরা অতিরিক্ত অর্থ গুনতে বাধ্য হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ইনস্পেক্টর শফিকুর রহমান এর আগেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ভবানীগঞ্জ জোনাল অফিস থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তকদির করে চাকরি বহাল করলেও ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানোয় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইনস্পেক্টর শফিকুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কোনো অনিয়ম বা ঘুস লেনদেনের সঙ্গে জড়িত নই।


কমলনগর জোনাল অফিসের ডিজিএম রাশেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে কথা উঠলে আমি খতিয়ে দেখেছি, তবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। আমরা কেন টাকা নেব? অভিযোগ সত্য নয়।


​এদিকে কার্যালয়টির দীর্ঘদিনের ঘুস, দালালি ও হয়রানি বন্ধে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু ও জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

সময়ের আলো/এনএন 


  বিষয়:   পল্লী বিদ্যুৎ  ডিজিএম ও ইনস্পেক্টর  দুর্নীতির অভিযোগ  রামগতি-কমলনগর  লক্ষ্মীপুর  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: