প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১২ পিএম
সংগৃহীত ছবিঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ছয় বছরের শিশুকে চকলেট ও খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে করা মামলায় মো. কামরুল নামে আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ মা-বাবার সঙ্গে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে ছয় বছরের শিশুটি। ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল সে। এ সময় মো. কামরুল খাবার কেনার জন্য টাকা দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে ১০ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি আরও ভালো খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটির সঙ্গে যৌন হয়রানি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ সময় শিশুটি ভয় পেয়ে চিৎকার করলে তার মা ও নানা-নানি কামরুলের ঘরের সামনে গিয়ে দরজা খুলতে বলেন। পরে ঘরের টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন তারা।
শিশুটির কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে স্থানীয় লোকজনকে জানানো হলে তারা কামরুলকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১ মে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক কামরুলকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।
বিচার চলাকালে আদালত ১০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
সময়ের আলো/এনএন