প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
সাটারিংয়ে কাঠের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করায় ঢালাইয়ের সময় তা ধসে পড়েছে। ছবি : সময়ের আলোটাঙ্গাইল শহরের পার্কবাজারে ঐতিহ্যবাহী শ্যামা বাবু খালের ওপর নির্মাণাধীন কালভার্টের সাটারিংয়ে কাঠের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করায় ঢালাইয়ের সময় তা ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ করা কার্যসহকারী মো. আব্দুল আওয়ালকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. নাজমুল হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর আগে টাঙ্গাইলের বাসাইলে এলজিইডির একটি সেতু নির্মাণে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবার শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকায় কালভার্ট নির্মাণে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শনিবার এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেন টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভুরাম পালকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনাজ পারভীনকে সদস্যসচিব এবং জনস্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলামকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জানা যায়, ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫৪ টাকা ব্যয়ে শ্যামা বাবু খালের ওপর কালভার্ট নির্মাণের জন্য এফ এ ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় টাঙ্গাইল পৌরসভা। নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে কালভার্টের সাটারিংয়ে কাঠের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়। গত বুধবার ঢালাইয়ের সময় সাটারিং ধসে পড়ে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে পৌরসভা তদন্ত কমিটি গঠন করে। পাশাপাশি কার্যসহকারীকে চাকরিচ্যুত এবং সংশ্লিষ্ট সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক নতুন করে সাটারিংয়ের কাজ করছেন। বাজারের ব্যবসায়ীরা তাঁদের কাছে কালভার্ট ধসে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইছেন।
হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বাজারের কালভার্টটির নির্মাণকাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার ব্যবসায়ীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান রেজাউল করিম বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলে ঘটনার মূল বিষয়টি জানা যাবে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি।
টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে পৌরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। পরে নতুন করে সাটারিং করে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন