প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
তেঁতুলিয়া থেকে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। ছবি : সময়ের আলোদুর্গাপূজা আর সাপ্তাহিক ছুটির লম্বা অবসরটাকে কাজে লাগিয়ে হিমালয়ের বরফশুভ্র রূপ দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ছুটে এসেছিলেন দেশের নানা প্রান্তের শত শত মানুষ। কিন্তু টানা তিন দিন ধরে আকাশ মেঘ আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকায় চোখের পলক ফেলতেও ধরা দেয়নি রূপসী কাঞ্চনজঙ্ঘা।
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার বুকভরা আশা নিয়ে এসেও দেখা না পাওয়ায় চরম মনখারাপ ও হতাশা নিয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে ভ্রমণপিপাসুদের। শনিবারও (১৭ অক্টোবর) বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গটির দেখা মেলেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকেই তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো, সীমান্তঘেঁষা মাগুরমারী কিংবা বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে খালি চোখেই স্পষ্ট দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার। যে কারণে এই সময়টাতে বরফচূড়ার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় জমে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও কুয়াশাঘেরা থাকায় সবাইকে নিরাশ হতে হয়েছে।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে তেঁতুলিয়ায় আসা শামীমা আক্তার এবং রাজশাহী থেকে আসা শাহরিয়ারের মতো অনেকেই বুকভরা আশা নিয়ে এসেছিলেন পাহাড় দেখতে। কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না পাওয়ায় মন খারাপ হলেও তারা বসে থাকেননি; বরং তেঁতুলিয়ার সমতল চা বাগান, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহারাজার দিঘী আর রক্স মিউজিয়ামের মতো দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে আজই নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হয়েছেন।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণেই বিগত তিন দিন ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়নি। চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকার সম্ভাবনাই বেশি, ফলে পাহাড় দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে নভেম্বরের শুরুতে আকাশ মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার হলে টানা কয়েক দিন অপরূপ কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন জানান, পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীদের ভিড় অনেক বেড়ে যায়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার মুখে না পড়েন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা