হাটহাজারীতে টমটমচালক হত্যা : ৭ আসামি গ্রেফতার

হাটহাজারী প্রতিনিধি

সারাদেশ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা (টমটম) চালক মো. আব্দুল নুর তুষার (২২) হত্যা ও রিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাত আসামিকে গ্রেফতার করেছে

2026-10-18T05:38:50+00:00
2026-10-18T05:38:50+00:00
 
  রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
হাটহাজারীতে টমটমচালক হত্যা : ৭ আসামি গ্রেফতার
হাটহাজারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৮ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা (টমটম) চালক মো. আব্দুল নুর তুষার (২২) হত্যা ও রিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাত আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইমরান হোসেন আপন (২৩) রয়েছেন। এ ঘটনায় ছিনতাই হওয়া রিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে হাটহাজারী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার তানভীর আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৬ অক্টোবর রাত ১১টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার অন্য আসামিরা হলেন মো. বাবলু (২৫), মো. আকতার হোসেন (৩৬), মো. মারুফ (২৫), গোলাপ মোস্তফা (৩৫) ও মো. আলাউদ্দিন (২৫)। এ ছাড়া গত ৭ অক্টোবর ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমসহ ঠাণ্ডাছড়ি এলাকা থেকে মো. রাসেল (২৫) নামে আরেক আসামিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ১ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যোগীরহাট থেকে খন্দকিয়া বাজারগামী ইটের সলিং সড়কের পাশের একটি বিলে তুষারের মরদেহ পাওয়া যায়। তার গলায় রশি ও গামছা প্যাঁচানো ছিল।

এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. সিরাজুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজের নির্দেশনায় তদন্ত শুরু করে পুলিশ। হাটহাজারী মডেল থানার একটি দল ভুক্তভোগীর বাড়ি বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে শুরু করে হাটহাজারীর বিভিন্ন স্থানের দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিরা বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুলগাঁও এলাকার সাদ-মুছা গার্মেন্টস কারখানার সামনে থেকে তুষারের রিকশা ভাড়া করেন। পরে নির্জন স্থানে গিয়ে রিকশা থামিয়ে পেছন থেকে তার গলায় প্রথমে রশি, পরে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ পাশের বিলে ফেলে রিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান।

পুলিশের তথ্যমতে, আসামিরা যোগীরহাট হয়ে আমানবাজার, বড় দিঘির পাড় ও চৌধুরীহাট হয়ে ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় যান। সেখানে রিকশাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে বাবলুর জিম্মায় দেওয়া হয়। পরে রিকশাটি ঠাণ্ডাছড়ির একটি অটোরিকশা ওয়ার্কশপে রাখা হয়। এরপর হত্যা ও রিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বড় দিঘির পাড় এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাবার খান।


পুলিশ জানায়, ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে হাটহাজারী মডেল থানার এসআই আশিকুর রহমান, এসআই তানভীর আহমেদ ও এসআই আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে চৌধুরীহাট, সন্দ্বীপ কলোনি ও ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইমরান হোসেন আপনসহ রিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান হোসেন আপন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর এক সহযোগীকে নিয়ে হত্যা ও রিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন তারা। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর রিকশাটি ভাড়া করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তুষারকে হত্যা করে রিকশাটি ছিনিয়ে নেন। পরে বিক্রির উদ্দেশ্যে সেটি অন্য আসামিদের জিম্মায় দেওয়া হয়। রিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিরাও জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে আসামিদের দেখানো মতে, আকতার হোসেনের ওয়ার্কশপ থেকে ছিনতাই হওয়া রিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বলেন, গ্রেফতার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   হাটহাজারী  টমটমচালক  হত্যা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: