সিংগাইরে পেঁপের বাম্পার ফলন। ছবি : সময়ের আলোমানিকগঞ্জের সিংগাইরে পেঁপের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে মিলছে না ন্যায্যমূল্য। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৩ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ তো উঠছেই না, বরং শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা। লোকসানের বোঝা সইতে না পেরে কেউ কেউ পেঁপেগাছ কেটে ফেলছেন। আবার অনেকের খেতেই পেকে ও মাটিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে পেঁপে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিংগাইরে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হয়েছে। শাহী জাতসহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁপে আবাদ করেছেন কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হওয়ায় এবং একই সময়ে বিপুল পরিমাণ পেঁপে বাজারে আসায় সরবরাহ বেড়েছে। ফলে দাম কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পরিচর্যার অভাবে অনেক পেঁপেগাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। গাছে পাকা পেঁপে ঝুলে আছে, আবার অনেক ফল মাটিতে পড়ে পচে নষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষকেরা স্থানীয় বাজার, আড়ত ও পাইকারদের কাছে নামমাত্র দামে পেঁপে বিক্রি করছেন।
গোপালনগর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, দুই বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। অথচ পাইকারেরা খেত থেকে প্রতি কেজি পেঁপে ২ থেকে ৩ টাকায় কিনতে চাইছেন। এ দামে বিক্রি করলে শ্রমিকের মজুরি ও ভ্যানভাড়াও উঠবে না। তাই চোখের সামনে পেঁপে নষ্ট হতে দেখছেন তিনি।
উত্তর কানাইনগর গ্রামের কৃষক সাদ্দাম হোসেন ছয় বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করে বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, দাম এতটাই কম যে এখন আর খেতে যেতেও ইচ্ছা করে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে পেঁপেগাছ কেটে ফেলতে বাধ্য হবেন।
আরেক কৃষক তাজুল সিকদার জানান, কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা দরে পেঁপে বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে। ইতিমধ্যে দুই বিঘা জমির পেঁপেগাছ কেটে ফেলেছেন। বাকি দেড় বিঘা জমিতে লোকসান পুষিয়ে নিতে সাথি ফসল চাষ করে সেটির পরিচর্যা করছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচের খরচের পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে অনেক সময় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও পেঁপের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তাদের লোকসান আরও বাড়ছে।
কৃষকদের দাবি, এলাকায় পেঁপে সংরক্ষণের জন্য হিমাগার বা উপযুক্ত কোনো ব্যবস্থা নেই। পচনশীল ফল হওয়ায় দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করাও সম্ভব হচ্ছে না। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে বাজারে দাম কম থাকাকালে পেঁপে রেখে পরে বিক্রি করা যেত। এতে ফসলের অপচয় ও লোকসান কমানো সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কিশোর আহমেদ বলেন, পেঁপে সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তবে তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁপে আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে সাময়িকভাবে পেঁপের দাম কমেছে বলে জানান তিনি।
সময়ের আলো/জোই