প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৯ পিএম আপডেট: ১৮.১০.২০২৬ ৪:৩৯ পিএম
ব্রিধান-৩৪, ব্রিধান-৫১,৫২, নুনাস প্রজাতির স্বল্পমেয়াদি ধানচাষে ভালো ফলন হয়েছে। ছবি : সময়ের আলো কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ষাকালে পরিত্যক্ত সাড়ে ৭শ হেক্টর লবণাক্ত মাঠে স্বল্পমেয়াদি প্রজাতি ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখের হাসি ফুটেছে। ফলন ভালো হওয়ায় ধান চাষে নতুন কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর, সাবরাং-শাহপরীর দ্বীপ ও বাহারছড়া উপকূলীয় এলাকায় পরিত্যক্ত লবণাক্ত মাঠে চাষাবাদের প্রায় ৭০০ হেক্টরও ধান পরিদর্শন ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছর লবণ মাঠে ব্রিধান-৩৪, ব্রিধান-৫১,৫২, নুনাস প্রজাতির স্বল্পমেয়াদি ধানচাষে ভালো ফলন হয়েছে। এই পর্যন্ত বড়ো ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা না দিলেই, প্রতি ৪০ শতকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ আরি ধান উৎপাদন হতে পারে। আরও ওপরের কিছু কিছু জমিতে উৎপাদন বেশি হতে পারে।
লবণাক্ত মাঠে ধান চাষ করে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা বলেন, আমরা লবণ মাঠে কম সময়ে বেড়ে উঠা ব্রিধান-৩৩, ব্রিধান-৫১,৫২, নুনাস প্রজাতির ধান চাষ করে ভালো ফলন দেখতে পাচ্ছি। আগামীতে বড়ো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমরা বেশি ধান পাব বলে আশা করছি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পুরো জেলাজুড়ে যে লবণের চাষ করা হয়, তা যদি বর্ষাকালে জমির চাহিদামতো ধান চাষের আওতায় আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, তাহলে আমাদের খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়বে।
টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, টেকনাফ উপজেলায় দিনদিন লবণ মাঠে ধানচাষ বেড়ে যাচ্ছে, তার একমাত্র কারণ চাষিরা জানত না যে লবণ মাঠে ধান চাষ হয়। আমাদের টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিস উদ্যোগ নিয়ে লবণ চাষের জমিতেও যে ধান চাষ সম্ভব হয়, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের সাথে আমরা আউটডোর ও ইনডোরে পরামর্শ ও সেমিনার করি। লবণ মাঠে কীভাবে ধান চাষ সফল হবে, এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা করি এবং তাদের উদ্বুদ্ধ করি। পাশাপাশি অতিরিক্ত বরাদ্দ থেকে সার এনে সার দেওয়ার ব্যবস্থা করি। আগামীতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করব।
সময়ের আলো/এনএন