গাইবান্ধায় পিটিয়ে হত্যা : মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার। ছবি : সংগৃহীতগাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে পৈতৃক জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে আজিজুল হক নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভোরে পলাশবাড়ী উপজেলার একটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. জসিজল হক ওরফে ডিপটি (৬৫)। তিনি সাদুল্লাপুর উপজেলার ইসবপুর (পশ্চিম) গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আজিজুল হকের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্ত জসিজল হকের পরিবারের পৈতৃক জমিজমা ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য ও ঝগড়া-বিবাদ চলছিল।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর একটার দিকে আসামিরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বাঁশের লাঠি, ইটসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে আজিজুলের বসতবাড়ির সামনের আঙিনায় ঢুকে গোয়াল ঘর নির্মাণ শুরু করেন। আজিজুল ও তার স্ত্রী নিষেধ করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকেন বলে অভিযোগ।
এজাহারে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে জসিজল হক হত্যার উদ্দেশ্যে হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে আজিজুলের মাথায় আঘাত করেন। এতে আজিজুলের মাথায় হাড় ভেঙে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। একই সময় আজিজুলের স্ত্রীর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে তার শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় স্বামী-স্ত্রী দুজনই গুরুতর আহত হন।
স্ত্রীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ অক্টোবর রাত ১০টা ৩৯ মিনিটে আজিজুল হক মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রী মোছা. শাপলা খাতুন (৩০) বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন, যার নম্বর ১৯।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে এসআরবি-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ অক্টোবর ভোর ৫টা ২০ মিনিটে এসআরবি-১৩-এর সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল পলাশবাড়ী থানার পূর্ব নয়নপুর গ্রামে মো. তাছলিমুল হাসানের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে মামলার ১ নম্বর আসামি জসিজল হককে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য গ্রেফতার ব্যক্তিকে সাদুল্লাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রোববার এসআরবির সহকারী পরিচালক (মিডিয়া, ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী পুলিশ সুপার মুহম্মদ মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অপহরণ ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে এসআরবির নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/আতা