বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি : সংগৃহীতজীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো ও সরকারি নীতির প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স থেকে আর্জেন্টিনা, ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র, একাধিক দেশে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থী, শ্রমিক, পেনশনভোগী ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরা। কোথাও আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ফ্রান্স ও ইউরোপে অর্থনৈতিক চাপ
ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজের বরাতে ফ্রান্স ২৪ জানিয়েছে, ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে ক্ষোভের বিক্ষোভে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
বেলজিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। পর্তুগালে বাড়িভাড়া, আবাসন সংকট ও কম মজুরি নিয়ে হাজারো মানুষ মিছিল করেছেন। ইতালিতেও স্থবির মজুরি ও নিত্যপণ্যের ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে।
আলবেনিয়ায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা খাতে অর্থায়ন, বেকারত্ব ও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য নিয়ে আন্দোলন করছেন। ১৩ অক্টোবর তিরানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রতিবাদ
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করছে বিরোধী দল ও তাদের সমর্থকেরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতাকারীরা 'নো কিংস' কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন শহরে সমাবেশ করেছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোও এসব কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
আর্জেন্টিনা ও তুরস্কেও ক্ষোভ
আর্জেন্টিনায় প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের শিক্ষা খাতে ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
তুরস্কে মূল্যস্ফীতি, কম পেনশন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও শ্রমিক সংগঠনগুলো আন্দোলন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিক্ষোভের পেছনে দেশভেদে ভিন্ন কারণ থাকলেও অর্থনৈতিক চাপ, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও সরকারি নীতির প্রতি অসন্তোষ বড় ভূমিকা রাখছে।
সূত্র : এনডিটিভি
সময়ের আলো/এমকে