কৈলাশ পর্বত থেকে দুর্গার সঙ্গে কে কে আসেন?

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী বন্দনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বাঙালির বিশ্বাসে কৈলাশ ছেড়ে মর্ত্যে আসেন

2026-10-18T18:58:53+00:00
2026-10-18T19:13:19+00:00
 
  রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ফিচার
কৈলাশ পর্বত থেকে দুর্গার সঙ্গে কে কে আসেন?
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম  আপডেট: ১৮.১০.২০২৬ ৭:১৩ পিএম
দুর্গা প্রতিমা ও তার ৪ সন্তান। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী বন্দনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বাঙালির বিশ্বাসে কৈলাশ ছেড়ে মর্ত্যে আসেন উমা, সঙ্গে থাকেন তার চার সন্তান লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ। দেবী দুর্গার পাশে থাকা এই চার দেবদেবীর প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা পরিচয়, মাহাত্ম্য ও বাহন। কিন্তু কে কোন দেবতা, তাদের বাহনের পেছনেইবা কী কাহিনি রয়েছে? জেনে নেওয়া যাক- দেবী দুর্গার পরিবারের সদস্যদের পরিচয় ও তাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পৌরাণিক বিশ্বাস।

বাঙালির প্রচলিত দুর্গাপ্রতিমায় দেবী দুর্গার সঙ্গে দেখা যায় লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে তারা দেবী দুর্গার সন্তান হিসেবে পরিচিত। তবে, হিন্দু পুরাণের বিভিন্ন গ্রন্থ ও আঞ্চলিক ঐতিহ্যে দেবদেবীদের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে।

বাঙালির দুর্গাপূজায় দেবীকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপস্থাপনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এতে একদিকে যেমন দেবী দুর্গার শক্তিরূপ ফুটে ওঠে, অন্যদিকে তিনি হয়ে ওঠেন ঘরের মেয়ে উমা, যিনি সন্তানদের নিয়ে কৈলাশ থেকে মর্ত্যে ফিরে আসেন।


লক্ষ্মী : ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবী

দেবী দুর্গার সঙ্গে থাকা দেবী লক্ষ্মী ধন-সম্পদ, ঐশ্বর্য, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক। সংসারে সুখ-শান্তি ও প্রাচুর্য কামনায় তার আরাধনা করা হয়। প্রচলিত বাঙালি প্রতিমায় লক্ষ্মীকে সাধারণত পদ্মফুলসহ দেখা যায়। তার বাহন পেঁচা। পেঁচা রাতের অন্ধকারেও দেখতে পারে। এ কারণে কিছু ব্যাখ্যায় পেঁচাকে সতর্কতা ও বিচক্ষণতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে, লক্ষ্মীর প্রতিমা ও বাহনের চিত্রায়ণে অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য রয়েছে।


সরস্বতী : বিদ্যা ও সৃজনশীলতার প্রতীক

বিদ্যা, জ্ঞান, সংগীত ও শিল্পকলার দেবী সরস্বতী। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিল্পী ও জ্ঞানচর্চায় যুক্ত মানুষের কাছে তার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত প্রতিমায় তাকে সাদা পোশাকে, হাতে বীণা এবং পাশে রাজহাঁসসহ দেখা যায়। রাজহাঁস তার পরিচিত বাহন। সরস্বতীর সঙ্গে সাদা রঙের সম্পর্ককে পবিত্রতা, স্বচ্ছতা ও জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। দুর্গাপ্রতিমায় তার উপস্থিতি বিদ্যা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার গুরুত্বও তুলে ধরে।


কার্তিক : সাহস ও যুদ্ধকৌশলের দেবতা

দেবী দুর্গার সন্তান কার্তিক বা কার্তিকেয় হিন্দু পুরাণে যুদ্ধ ও সামরিক শক্তির দেবতা হিসেবে পরিচিত। তিনি দেবসেনাপতি হিসেবেও বিবেচিত। বাঙালি প্রতিমায় কার্তিককে সাধারণত সুদর্শন যুবক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তার বাহন ময়ূর। কার্তিকের পরিচয়ের সঙ্গে সাহস, বীরত্ব ও যুদ্ধকৌশলের ধারণা জড়িয়ে রয়েছে। তবে, বিভিন্ন পৌরাণিক গ্রন্থ ও আঞ্চলিক ঐতিহ্যে তার জন্ম ও পরিচয় নিয়ে একাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়।


গণেশ : শুভ সূচনা ও সিদ্ধির দেবতা

হাতির মাথাবিশিষ্ট গণেশ হিন্দুধর্মে বাধা দূর করা, বুদ্ধি, সিদ্ধি ও শুভ সূচনার দেবতা হিসেবে পূজিত হন। নতুন কোনো কাজ শুরুর আগে গণেশের আরাধনার প্রচলন রয়েছে বহু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে। গণেশের বাহন ইঁদুর। আকারে ছোট হলেও এই বাহন তার প্রতিমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যায় গণেশের সঙ্গে বুদ্ধি, প্রজ্ঞা ও বাধা অতিক্রম করার ধারণা যুক্ত রয়েছে।

দেবদেবীদের বাহনের তাৎপর্য

দুর্গাপূজার প্রতিমায় দেবদেবীদের পাশাপাশি তাদের বাহনও বিশেষভাবে নজর কাড়ে। প্রচলিত বাঙালি প্রতিমায় দেবী দুর্গার বাহন সিংহ, লক্ষ্মীর পেঁচা, সরস্বতীর রাজহাঁস, কার্তিকের ময়ূর এবং গণেশের ইঁদুর। এই বাহনগুলো শুধু প্রতিমার সাজসজ্জার অংশ নয়; এগুলো হিন্দু ধর্মীয় কল্পনা, পৌরাণিক কাহিনি ও প্রতীকী ব্যাখ্যারও অংশ। বাহনগুলোর পরিচয় দেবদেবীদের চেনার পাশাপাশি তাদের ঘিরে থাকা বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে বুঝতেও সাহায্য করে। প্রচলিত দুর্গাপ্রতিমায় মহিষাসুরের সঙ্গে দেবী দুর্গার যুদ্ধের দৃশ্যও থাকে। মহিষাসুরবধ অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। দেবী দুর্গা, তার চার সন্তান এবং তাদের বাহন মিলিয়ে প্রতিমায় ফুটে ওঠে একটি পূর্ণাঙ্গ পৌরাণিক দৃশ্য।

দুর্গা কেন সন্তানদের নিয়ে মর্ত্যে আসেন?

বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে দেবী দুর্গাকে অনেক সময় উমা বা ঘরের মেয়ে হিসেবে কল্পনা করা হয়। এই বিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি কৈলাশ থেকে সন্তানদের নিয়ে মর্ত্যে আসেন। ফলে, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি হয়ে ওঠে ঘরের মেয়ের ফিরে আসা, পারিবারিক বন্ধন ও মিলনোৎসবের প্রতীক।

তবে, দেবী দুর্গার সঙ্গে সন্তানদের আগমনের এই ধারণা মূলত বাঙালি দুর্গাপূজার জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা। হিন্দুধর্মের সব সম্প্রদায় ও অঞ্চলে দেবদেবীদের সম্পর্ক বা পূজার রীতি একই রকম নয়। সপ্তমীর পূজায় দেবী দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের আরাধনা দুর্গোৎসবকে দেয় ভিন্ন মাত্রা। সমৃদ্ধি, বিদ্যা, সাহস ও শুভ সূচনার প্রতীক হিসেবে তাদের উপস্থিতি বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস, পারিবারিক আবেগ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে একসূত্রে গেঁথে রাখে।

সূত্র : ভারতের জাতীয় জাদুঘর বাংলার দুর্গাপূজা, ব্রিটিশ মিউজিয়াম বাংলার দুর্গাপ্রতিমা ও তার প্রতীকী অর্থ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, বাঙালির দুর্গাপূজা ও উমার ঘরে ফেরার ঐতিহ্য

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   দুর্গা প্রতিমা  দুর্গাপূজা  লক্ষ্মী  সরস্বতী  কার্তিক  গণেশ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: