কালিয়াকৈরে বৃদ্ধার বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ, অসহায় পরিবার। ছবি : সময়ের আলোআদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৭০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধার একমাত্র বসতবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ডাকুরাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় রোববার (১৮ অক্টোবর) বৃদ্ধার ছেলে মোস্তফা বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধার চিৎকার, কান্নাকাটি ও শত বাধা সত্ত্বেও ভাঙার কাজ বন্ধ হয়নি; মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। রায়মন খাতুনের জীবনের শেষ আশ্রয় ছিল এই বসতবাড়িটি। দুই মেয়ের বিয়ের পর তিনি ছেলে-সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে গত ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে এই বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এর আগেও দেলোয়ার নামে ওই ব্যক্তি বসতবাড়ি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ নিয়ে আদালতে ১৪৫ ধারায় নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে ভুক্তভোগী পরিবার।
পরিবারের দাবি, আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে শান্তি রক্ষার জন্য আদেশও দেন তাদের পক্ষে। পরে স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে একটি কপি জমা দেন ওই পরিবার। কিন্তু এরপরও আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বসতবাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বৃদ্ধা রায়মন খাতুন ও তার পরিবার। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ অক্টোবর সকালে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একটি ভেকু দিয়ে তার বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালান। এ সময় দুটি আধাপাকা টিনের ঘর, টিনশেড গোয়ালঘর, রান্নাঘরসহ বসতঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়। ঘরে থাকা আসবাবপত্র, ধান-চাল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তুলেছেন মোফস্তা। তার দাবি, এ ঘটনায় ঘরবাড়ি ও মালামাল মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটের অভিযোগও করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন জানান, ওই ঘরবাড়ি তার নিজের করা। জোরপূর্বক আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে দখল করেছে। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।
কালিয়াকৈর থানা ওসি শহীদুল ইসলাম জানান,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ততক্ষণে ঘরবাড়ি ভেঙে চলে গেছে। তবে এর আগে আদালতের একটি নিষেধাজ্ঞা পেয়েছি পরে সতর্ক করা হয়েছে। এখন আইনি প্রক্রিয়া বাকী রয়েছে। ঘরবাড়ি ভাঙার একটি অভিযোগ পেয়েছি। মামলা রেকর্ড করা হবে। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।
সময়ের আলো/আতা