ব্যবসায়ী মো. এহসান ওরফে হাসান। ছবি : সংগৃহীতবাঁশখালীতে মো. এহসান প্রকাশ হাসান (৩৬) নামে ব্যবসায়ীকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) পরিচয় দিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজার এলাকায় তাঁর নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’ থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও হদিস মেলেনি হাসানের।
শনিবার রাতেই এ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, এসআরবির লোগোযুক্ত পোশাকে হাসানের দোকানে প্রবেশ করে কয়েকজন যুবক। তারা মুখে মাস্ক এবং মাথায় ক্যাপ পরিধান করা অবস্থায় ছিলেন।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা প্রকৃত এসআরবি সদস্য নন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজাখালী ইউনিয়নের নেজাম উদ্দিন নেজু (৪২) নামের সন্দেহভাজন একজনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। নেজাম উদ্দিন নেজু রাজাখালী ইউনিয়নের মিয়ারপাড়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে।
নিখোঁজ ব্যবসায়ীকে উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা পেতে রোববার বিকেলে প্রেমবাজারে ‘পুঁইছড়ি নিউ জেনারেশন সোসাইটি’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন মানববন্ধনের আয়োজন করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় কালো পোশাক ও মুখে কালো মাস্ক পরিহিত চার ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে এহসানকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যান। অপর দুজন বাইরে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের পোশাকে এসআরবির লোগো ফেইক ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র মতে, ওই ব্যবসায়ীকে প্রথমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পুঁইছড়ির প্রেমবাজার থেকে পেকুয়া উপজেলার টৈটং হাজী বাজারে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে অন্য একটি অটোরিকশায় তাঁকে চকরিয়ার বরইতলী নতুন রাস্তার মাথার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে তাঁকে বহনকারী ব্যক্তিরা পুঁইছড়িতে কীভাবে এসেছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া তাঁকে বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ এহসান পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়ি এলাকার তেলিয়াকাটা গ্রামের বাসিন্দা হাজী নুরুল কবিরের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকার পর দেশে ফিরে প্রেমবাজারে হার্ডওয়্যারের ব্যবসা শুরু করেন। ঘটনার সময়ও তিনি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ীর পরিবার তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। এহসানের চাচাতো ভাই জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি, এসআরবি পরিচয়ে যাঁরা আমার ভাইকে নিয়ে গেছেন, তাঁরা প্রকৃত এসআরবি সদস্য নন। কারা এবং কী কারণে তাঁকে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমরা তাঁর দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন চাই।
বাঁশখালী থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ীকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যবহৃত অটোরিকশার চালকদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তাঁরা এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এদিকে এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় এসআরবির পরিচয় ব্যবহারকারীরা প্রকৃত সদস্য নন। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।
বাঁশখালী থানার অফিসার (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, ব্যবসায়ী এহসানের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পেকুয়ার নেজাম উদ্দিন প্রকাশ নেজু (৪২) নামে ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।
সময়ের আলো/এনএন