কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড। ছবি : সময়ের আলোকক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় 'টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্ট'-এ সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি মাঠে নেমেছে। শনিবারের (১৭ অক্টোবর) এই দুর্ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত অবস্থায় ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন ঢাকার আশুলিয়া এলাকার একটি স্কুলের শিক্ষিকা ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তা।
রোববার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির প্রধান তাসনিম জাহানের নেতৃত্বে সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন তারা।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, রিসোর্টটি তৈরিতে কোনো নিয়ম মানা হয়েছিল কি না এবং সেখানে অগ্নিনির্বাপণসহ পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলমান থাকলেও ডিএনএ টেস্ট ছাড়া মরদেহগুলোর সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা অসম্ভব বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অনুমতি ছাড়া রাতারাতি গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে খুব দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। পরিদর্শনের সময় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে নিখোঁজ শিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তার সন্ধানে রোববার আবারও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পোড়া স্তূপে তল্লাশি চালিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুই বান্ধবী আইরিন জাহান ও ইসরাত জাহানকে সঙ্গে নিয়ে এই রিসোর্টে উঠেছিলেন মুক্তা। রোববার তাদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। ঘটনার দিন দুই বান্ধবী সকালে হাঁটার জন্য বাইরে বের হলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই মুক্তার কোনো খোঁজ মিলছে না।
স্ত্রীর খোঁজে কক্সবাজারে ছুটে আসা দেওয়ান ফয়সাল জানান, হাসপাতাল, মর্গ ও রিসোর্টের কোথাও তার স্ত্রীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মর্গের মরদেহগুলোর যে অবস্থা, তাতে খালি চোখে কাউকে চেনার উপায় নেই।
মুক্তার নিখোঁজের বিষয়টি সামনে আসার পর মরদেহের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। শনিবার উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় মিললেও বাকি চারজন নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। পরবর্তীতে যশোরের মনিরামপুরের নাহিদুর রহমান, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের স্বজনরা দাবি করেন যে রিসোর্টের টয়লেট থেকে উদ্ধার হওয়া চারজন তাদেরই পরিবারের।
তাসনিম জাহান বলেন, নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছেন। তাদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তাসনিম জাহান বলেন, সম্ভাব্য একজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলেও অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি রিসোর্টে ছিলেন নাকি বাইরে ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রয়োজনে তার মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্তের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/আতা