পারমাণবিক পদ্ধতিতে ধান চাষে ৯৫ দিনে দ্বিগুণ ফলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক পদ্ধতিতে ধান চাষে অল্প সময়ে অধিক ফলন পেতে শুরু করেছে পশ্চিম আফ্রিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত খরাপ্রবণ দেশ বুরকিনা ফাসো। সেখানকার

2026-10-18T22:52:14+00:00
2026-10-18T22:52:14+00:00
 
  রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
পারমাণবিক পদ্ধতিতে ধান চাষে ৯৫ দিনে দ্বিগুণ ফলন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম 
বুরকিনা ফাসোতে চালের ব্যবহার দ্বিগুণ হয়েছে। সংগৃহীত ছবি
পারমাণবিক পদ্ধতিতে ধান চাষে অল্প সময়ে অধিক ফলন পেতে শুরু করেছে পশ্চিম আফ্রিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত খরাপ্রবণ দেশ বুরকিনা ফাসো। সেখানকার কৃষকদের ধান উৎপাদনের কাজ শুরু হয় জমিতে বীজ বপনের অনেক আগে থেকেই। এর সূচনা হয় বিজ্ঞানচর্চার মাধ্যমে। দেশটির বিজ্ঞানীরা পারমাণবিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ধানের আটটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। এসব জাতের ফলন বেশি, দ্রুত পরিপক্ব এবং দানার গুণগত মানও উন্নত। এর ফলে দেশটিতে স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো ও চাল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে অবমুক্ত করা এসব জাতের মাধ্যমে গবেষণাগারের বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন কীভাবে কৃষকের মাঠ পেরিয়ে মানুষের খাবারের থালায় পৌঁছাতে পারে, সম্প্রতি তা এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘অ্যাটমস৪ফুড’ উদ্যোগের আওতায় পাওয়া সহায়তায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।

গত এক দশকে বুরকিনা ফাসোতে চালের ব্যবহার দ্বিগুণ হয়েছে। তবে দেশটির মোট চালের প্রায় অর্ধেকই আমদানি করতে হয়। ফলে দেশের অভ্যন্তরে ধান উৎপাদন বাড়ানো জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। এ উদ্যোগে দেশটির জাতীয় ধান প্রজনন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বুরকিনা ফাসোর বিজ্ঞানীদের চ্যালেঞ্জ শুধু বেশি ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করা নয়; বরং এমন জাত তৈরি করা, যা স্থানীয় চাষের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খায় এবং কৃষক ও ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ করে। বিজ্ঞানীরা ‘মিউটেশন ব্রিডিং’ বা মিউটেশন প্রজনন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এ পদ্ধতিতে বিকিরণের সাহায্যে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টির প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা হয়। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন গাছ নির্বাচন করে ধানের নতুন লাইন তৈরি করেন।

আইএইএ’র কারিগরি সহযোগিতা কর্মসূচির আওতায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেশটির বিজ্ঞানীদের এ প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি সম্ভাবনাময় ধানের লাইনগুলোর উন্নয়ন ও মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা চালাতেও এ সহায়তা ভূমিকা রেখেছে। এ উদ্যোগের ফলে ধানের আটটি নতুন জাত অবমুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোতে মাঠ থেকে খাবারের থালা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটেছে।

উদ্ভাবিত নতুন জাতগুলোর হেক্টরপ্রতি ফলন ৯ থেকে ১১ টন। এগুলো পরিপক্ব হতে সময় নেয় মাত্র ৯৫ থেকে ১০৬ দিন। অন্যদিকে বুরকিনা ফাসোর জাতীয় তালিকায় থাকা প্রচলিত জাতগুলোর হেক্টরপ্রতি ফলন সাধারণত ৪ থেকে ৬ টন এবং সেগুলোর চাষকালও দীর্ঘ। তবে বেশি ধান উৎপাদনই একমাত্র লক্ষ্য ছিল না। ভোক্তাদের চাহিদা ও পছন্দের কথা বিবেচনা করেও বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ধান নির্বাচন করেছেন। নতুন জাতগুলোর মধ্যে দুটি বড় দানার, দুটি রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বা প্রতিরোধী শ্বেতসারসমৃদ্ধ এবং একটি মোমের মতো আঠালো বৈশিষ্ট্যের চালের জাত রয়েছে।

জোসেফ কিয়েরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমায়েল অঁরি নেস্তর বাসোলে বলেন, এই অর্জনের গুরুত্ব আটটি নতুন জাত উদ্ভাবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অ্যাটমস৪ফুড উদ্যোগের আওতায় আইএইএ ও এফএওর সহায়তায় আমরা বুরকিনা ফাসোতে বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বাড়িয়েছি। এর ফলে পরিবর্তিত চাষের পরিবেশ এবং কৃষক ও ভোক্তাদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফসলের জাত উদ্ভাবন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

সম্ভাবনাময় ধানের একটি লাইন উদ্ভাবন হলো কাজের প্রথম ধাপ। নতুন কোনো জাত কৃষকের কাছে পৌঁছানোর আগে স্থানীয় চাষের পরিবেশে তা পরীক্ষা করতে হয়, কৃষক ও ভোক্তাদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে মূল্যায়ন করতে হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করতে হয়। বুরকিনা ফাসোতে মিউটেশন প্রজনন পদ্ধতি বিষয়ে দক্ষতা বাড়ায় গবেষকরা সম্ভাবনাময় ধানের লাইনগুলোকে এ পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে পেরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে গবেষণাগারে উদ্ভাবন, মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা এবং জাত অবমুক্তি।

আগের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আইএইএ ও এফএওর যৌথ সহযোগিতায় জাত নিবন্ধন প্রক্রিয়া, বামা ও বানজোনে প্রদর্শনী ক্ষেত্র স্থাপন এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত ধানের জাত উদ্ভাবনের উদ্যোগে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নতুন অবমুক্ত জাতগুলোতে শনাক্ত করা সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যগুলোর সমন্বয় ঘটিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের উন্নত জাত উদ্ভাবনই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। ২০২৫ সালের জুনে উন্নত পর্যায়ে থাকা মিউটেশনের মাধ্যমে উদ্ভাবিত ১১টি ধানের লাইনের মধ্যে আটটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুরকিনা ফাসোর উদ্ভিদ প্রজাতি ও জাতের জাতীয় তালিকায় নিবন্ধিত হয়। দেশটির ধান গবেষণা ও উৎপাদন খাতের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

নতুন জাতগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পাওয়ার পর বীজ উৎপাদন বাড়ানো এবং আরও বেশি কৃষকের কাছে এসব জাত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। প্রদর্শনী ক্ষেত্রগুলোতে স্থানীয় চাষের পরিবেশে জাতগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গবেষণায় অর্জিত উদ্ভাবনকে বাস্তব উৎপাদনে নিয়ে যাওয়ার কাজ এগিয়ে চলছে। খাদ্য ও কৃষিতে পারমাণবিক প্রযুক্তি প্রয়োগবিষয়ক যৌথ এফএও-আইএইএ কেন্দ্রের পরিচালক দংশিন ফেং বলেন, বুরকিনা ফাসোতে অর্জিত অগ্রগতি দেখিয়েছে, খাদ্যনিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং জাতীয় গবেষণা সক্ষমতা জোরদার করতে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কীভাবে দেশগুলোকে সহায়তা করতে পারে।

অ্যাটমস৪ফুড উদ্যোগের আওতায় আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছি, যাতে এ ধরনের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে কৃষি-খাদ্যব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। ২০২৫ সালের মে মাসে বুরকিনা ফাসোতে অ্যাটমস৪ফুড উদ্যোগের আওতায় প্রথম যৌথ মূল্যায়ন মিশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরবর্তী পর্যায়ের সহায়তার জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়। 


সময়ের আলো/ইউএমএইচ

  বিষয়:   পারমাণবিক পদ্ধতি  ধান চাষ 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: