প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
সংগৃহীত ছবিইসরায়েলের দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক মেরুকরণে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন আরব রাজনৈতিক দল ‘রাম’র শীর্ষ নেতা মনসুর আব্বাস। ইসরায়েলি সমাজে পিছিয়ে পড়া আরব নাগরিকদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে এবং তাদের অধিকার আদায় করতে তিনি এমন এক রাজনৈতিক পথ বেছে নিয়েছেন, যা দেশের ভেতরের ইহুদি ও আরব— দুই সম্প্রদায়ের কাছেই ধারণার বাইরে ছিল। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।
ঐতিহাসিকভাবে ইসরাইলের জাতীয় রাজনীতিতে আরব দলগুলোর ভূমিকা ছিল খুবই সীমিত। সরকার গঠন বা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তাদের সবসময় এক ধরনের দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যেত। কিন্তু মনসুর আব্বাস সেই পুরোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও ট্যাবু ভেঙে ফেলে সোজা জাতীয় রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে ইসরায়েলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরবদের সরাসরি উপস্থিতি এখন সময়ের দাবি।
মনসুর আব্বাসের মূল লক্ষ্য হলো— আরব ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যকার রাজনৈতিক দেয়ালটা ভেঙে একটি কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। ইসরায়েলের সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক শক্তিতে পরিণত হয়ে তিনি আরব অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ক্ষমতার সমীকরণে থেকে আরব জনগণের জন্য সরাসরি আর্থিক বাজেট ও নাগরিক সুবিধা আদায় করে নেওয়া সম্ভব।
মনসুর আব্বাসের এই সাহসী ও ভিন্নধর্মী পদক্ষেপের কারণে ইসরায়েলের রাজনৈতিক দলগুলোর হিসাব-নিকাশ নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে। একদিকে কট্টরপন্থি ডানপন্থিরা তার এই প্রভাব মেনে নিতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়ছে, অন্যদিকে মূলধারার অনেক দলই এখন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আব্বাসের সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। তার এই বাস্তববাদী রাজনীতি কেবল ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনগুলোতেই বড় প্রভাব ফেলবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতেই এক আরব নেতার ইসরায়েলি ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসার নতুন নজির তৈরি করছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ