প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ এএম
ছবি : সময়ের আলোথানায় ঢুকে এক নারী সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার ঘটনায় ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছেন এএসআই শাহনাজ আক্তার। ঘটনাটি বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার।
এএসআই শাহনাজ আক্তারের দায়ের করা জিডির একটি ছবি রোববার দুপুরে প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জিডি অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর এএসআই শাহনাজ আক্তার থানায় সাধারণ ডায়েরিটি করেন। এতে তিনি একই থানার ওসি মাসুদ খানের স্ত্রীকে দায়ী করেছেন।
জিডির বিবরণে শাহনাজ আক্তার উল্লেখ করেছেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে ওসির স্ত্রী আঞ্জুমান (৪০) থানায় এসে তাকে (এএসআই) উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। ওই সময় তিনি থানার ডিউটি অফিসারের চেয়ারে বসা ছিলেন। সে সময় ওসির স্ত্রী তাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিব্রত ও অপমানিত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া আমি বক্তব্য দিতে পারি না। তবে ঘটনা সত্যি।
এ ব্যাপারে এএসআই শাহনাজ আক্তার বলেন, এটা থানার অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই এ ব্যাপারে তেমন কিছু বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে জিডির বিষয়ে যা শুনেছেন তা সত্যি।
অপরদিকে ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি করার পরপরই এএসআই শাহনাজ আক্তারকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে বদলি করে জেলার বানারীপাড়া থানায় নিযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ায় ওসি মাসুদ খান জরুরি ছাড়পত্র দিয়ে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন থানায় বদলি করেছেন বলে থানার নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে।
স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, এটা ভুল তথ্য। এগুলো কে ছড়ায়? এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ ব্যাপারে জানতে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো জবাব না দেওয়ায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সম্প্রতি বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে তলব করা হয়।
সময়ের আলো/আতা