প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত ঘরের মাঠে জয় দিয়েই আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবলে নতুন অভিযাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ জাতীয় নারী দল। ‘বেগম খালেদা জিয়া-আইএইচএফ নেশনস ট্রফি’র প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৩৩-২০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। রোববার পল্টনের শহিদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নেয় স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসোর দল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুদলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও বিরতির আগেই নিজেদের এগিয়ে নেয় বাংলাদেশ। প্রথম ৩০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ছিল ১৩-৯। বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়িয়ে নেপালের ওপর চাপ আরও বাড়ায় স্বাগতিকরা। একপর্যায়ে ব্যবধান বড় হতে থাকলে জয় নিয়ে আর সংশয় থাকেনি। শেষ পর্যন্ত ১৩ গোলের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করে বাংলাদেশ।
দলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান আলপনা আক্তারের। একাই সাতটি গোল করে ম্যাচসেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। মিষ্টি খাতুন ও শ্যামলী মিং ছয়টি করে গোল করে আক্রমণে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। অধিনায়ক ইসমেতারা নিশির নামের পাশে যোগ হয় পাঁচ গোল। সায়মা জান্নাত সীমা করেন চারটি। এ ছাড়া মাসুদা আক্তার দুটি এবং পূর্ণিমা রানী, অনুরাধা পাহান ও তাসনিয়া রহমান আরশা একটি করে গোল করেন।
চার দলের এই প্রতিযোগিতা হচ্ছে সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে। ফলে প্রতিটি ম্যাচই ফাইনালের পথে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচে বড় জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেই আশা দলের। ২০১৯ সালের এসএ গেমসে নেপালের কাছে হারের স্মৃতির পর এবার নিজেদের মাঠে এমন জয় বাড়তি তৃপ্তিও দেবে খেলোয়াড়দের। তবে বাংলাদেশের সামনে পরের ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষা। আজ শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা।
এর আগে আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে চার জাতির টুর্নামেন্টটির যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশনের (আইএইচএফ) সহায়তায় এবং বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজন করা হচ্ছে প্রতিযোগিতাটি। অনুষ্ঠানে আমিনুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সৌহার্দ আরও দৃঢ় হবে।
নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণদের ক্রীড়ামুখী করার পাশাপাশি নারী ক্রীড়াবিদদের এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কাজ করছে। নারীদের পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সাফল্য আগামী প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব দলের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে আমিনুল হক খেলোয়াড়দের নিজেদের সেরাটা দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জয়-পরাজয়ের বাইরে খেলাধুলার সৌন্দর্য, শৃঙ্খলা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি।
উদ্বোধনী দিনের জয় ও আয়োজনের সাফল্য মিলিয়ে বাংলাদেশের হ্যান্ডবল অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ইতিবাচক আবহ। এখন সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পরের ম্যাচগুলোতেও ভালো পারফরম্যান্সের লক্ষ্য স্বাগতিক নারী দলের।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি