প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৬ এএম
থমিক শিক্ষকের পদায়ন উন্মুক্ত লটারিতে। ছবি : সংগৃহীতবগুড়ার ১৩ উপজেলায় নবনিযুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৭৯ জন সহকারী শিক্ষকের পদায়ন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে উন্মুক্ত লটারির আয়োজন করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। লটারির মাধ্যমে শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের নাম নির্বাচন করে পদায়ন নিশ্চিত করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে এ লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতের অভিযোগ এড়াতেই লটারির পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো শিক্ষককে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরের বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে—এমন অভিযোগের সুযোগ থাকবে না। লটারিতে যে শিক্ষক যে বিদ্যালয়ের জন্য নির্বাচিত হবেন, তাকে সেখানেই পদায়ন দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষকদের নিজ নিজ উপজেলার বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে। তবে কোনো উপজেলায় শূন্য পদ না থাকলে নীতিমালা অনুসরণ করে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় পদায়ন দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে সরকারি বিধি অনুযায়ী বদলির সুযোগ থাকলেও আপাতত তদবির ও অনিয়ম এড়াতে এ পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। স্বচ্ছ পদায়ন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে পদায়ন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রেজোয়ান হোসেন। তিনি জানান, মেধাতালিকার ভিত্তিতে বগুড়ায় ৩৬০ জন শিক্ষককে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। তাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ২৭৯ জন শিক্ষক চূড়ান্তভাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করেন। এরই মধ্যে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
রেজোয়ান হোসেন বলেন, লটারি পরিচালনার জন্য দুটি পৃথক বাক্স রাখা হয়। একটিতে শিক্ষকদের নাম এবং অন্যটিতে শূন্য পদ থাকা বিদ্যালয়গুলোর নাম রাখা হয়। প্রথমে একজন শিক্ষকের নাম এবং পরে একটি বিদ্যালয়ের নাম তুলে তাঁর পদায়ন নির্ধারণ করা হয়।
উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পদায়ন সম্পন্ন হওয়ায় নবনিযুক্ত শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সন্তোষ দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা, উপজেলা আইসিটি কমিটির সদস্য এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জোই