নীরবতায় যখন সওয়াব মেলে

সাইদুর রহমান

ইসলাম

নীরবতা মানুষের একটি বিশেষ গুণ। এ গুণের মাধ্যমে মানুষ অনেক অপরাধ থেকে বাঁচতে পারে। আদর্শ সমাজ গঠনে কখনো কখনো মানুষকে

2026-10-19T11:03:35+00:00
2026-10-19T11:03:35+00:00
 
  সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬,
৩ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ইসলাম
নীরবতায় যখন সওয়াব মেলে
সাইদুর রহমান
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ এএম 
নীরবতা মানুষের একটি বিশেষ গুণ, এ গুণের মাধ্যমে মানুষ অনেক অপরাধ থেকে বাঁচতে পারে। ছবি : সংগৃহীত
নীরবতা মানুষের একটি বিশেষ গুণ। এ গুণের মাধ্যমে মানুষ অনেক অপরাধ থেকে বাঁচতে পারে। আদর্শ সমাজ গঠনে কখনো কখনো মানুষকে নীরবতা অবলম্বন করতে হবে। অবশ্য স্থান, কাল ও পাত্র বুঝে নীরবতা অবলম্বন করতে হবে। যত্রতত্র নীরবতা অবলম্বন বা পরিহার করা যাবে না। নীরবতার ক্ষেত্রে শরিয়া দৃষ্টিকোণের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। কারণ, শরিয়তের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে নীরবতা পালন জায়েজ নয়। তবে অনর্থক কথা-বার্তা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে নীরবতা পালন করতে হবে। অহেতুক কথা-বার্তা থেকে নীরব থাকা ষাট বছরের নফল ইবাদত থেকে উত্তম। 

এ মর্মে নবীজি (সা.) বলেন, কোনো ব্যক্তির নীরবতার ওপর কায়েম থাকা ষাট বছরের নফল ইবাদত থেকে উত্তম। (মেশকাত : ৪৬৫১) 

সাধারণত অনর্থক কথাবার্তা বলতে গিয়ে অনেক সময় মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। এমনকি নিজের অজান্তে গিবত-পরনিন্দায় জড়িয়ে পড়া, যা নিজের উত্তম আমলের পাল্লাকে হালকা এবং গুনাহর পাল্লাকে ভারী করে। তাই নিষ্ফল ও অহেতুক কথাবার্তা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে। তা হলে নীরবতা পালনকারী পরকালে চিরস্থায়ী শান্তি নিকেতন জান্নাতপ্রাপ্ত হবে। হাদিসে অহেতুক কথাবার্তাকে বর্জন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নীরবতা পালনকে গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। হজরত আনাস (রা.) রাসুল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, হে আবু জর! আমি কি তোমাকে এমন দুটি স্বভাবের কথা বলে দেব না, যা বহন খুবই সহজ এবং মাপের পাল্লায় অতীব ভারী? আমি বললাম জি হ্যাঁ, বলুন। তিনি বললেন, দীর্ঘ নীরবতা ও সচ্চরিত্রতা। সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ; বান্দার এ দুটি কাজের মতো উত্তম কাজ আর নেই। (মেশকাত : ৪৬৫৩)


কথার মাধ্যমে ঈমানের প্রকাশ ঘটে। ঈমানের দাবি হলো— ভালো কথা বলা অথবা চুপ থাকা। ঈমানদার মানুষ অনর্থক, অযথা, মিথ্যা, পরনিন্দা ও প্রতারণামূলক কথা বলতে পারে না। নবীজি (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে নতুবা চুপ থাকে (বুখারি : ৬০১৮)। যত কম কথা বলা যায়, ততই কল্যাণকর। রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘক্ষণ নীরবতা অবলম্বন করতেন। ওমর (রা.) বলেন, ‘চুপ থাকার কারণে আমি কখনো লজ্জায় পড়িনি। তবে কথা বলার কারণে আমি অনেকবার লজ্জিত হয়েছি।’ আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে চুপ থাকে, সে পরিত্রাণ পায়। (তিরমিজি : ২৫০১)

কথা একবার মুখ থেকে বের হয়ে গেলে আর ফিরিয়ে আনা যায় না। কাজেই কথার পরিণতি ও ফলাফল নিয়ে ভেবেচিন্তে বলা উচিত। এতে পদস্খলন কম হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, মানুষ চিন্তা-ভাবনা না করে এমন 
কথাবার্তা বলে, যার দ্বারা তার পদস্খলন ঘটে পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্ব থেকে বেশি দূরত্ব দোজখে গিয়ে পতিত হয়। (বুখারি : ৬৪৭৭)  


সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি/এমকে
  বিষয়:   নীরবতা  যখন  সওয়াব  মেলে 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: