ট্রাম্প দাবি করেছেন অভিবাসীদের হৃদয়ে থাকা ঘৃণার আগুনে জ্বলছে ফ্রান্স। ছবি : সংগৃহীত ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ-সহিংসতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির অস্থিরতার জন্য অভিবাসীদের দায়ী করে তিনি দাবি করেছেন, তাদের ‘হৃদয়ে থাকা ঘৃণার আগুনে’ জ্বলছে ফ্রান্স। একই সঙ্গে সীমান্ত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘ফ্রান্স জ্বলছে! সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগত থেকে আসা মানুষ- যাদের হৃদয়ে রয়েছে ঘৃণা- তারা একসময়ের মহান এই দেশটিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই সীমান্ত বন্ধ করুন এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিন!’
ফ্রান্সে চলমান অস্থিরতার সূত্রপাত হয় গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ বাড়ানো ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার দাবিতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা প্রথমে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষও এতে যোগ দেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ থেকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়।
শনিবার এসব দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এতে অংশ নেন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। অন্যদিকে, দেশটির বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন সিজিটি ইউনিয়নের দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ। আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে অভিবাসন নয়, বরং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি পরিষেবার উন্নয়ন প্রাধান্য পেয়েছে।
একপর্যায়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সরকারি ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। রোববার ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক ভাঙচুরের চিত্র দেখা যায়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা লরেন্ট নুনেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, রোববার রাতে রাজধানীতে ৮৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেডের পোড়া ধ্বংসাবশেষ, ভাঙা কাচ ও পুড়ে যাওয়া গাড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের লুটপাটের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব সহিংসতায় প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য, দমকলকর্মী ও জরুরি চিকিৎসাসেবাকর্মী আহত হয়েছেন।
ফ্রান্সের এই অস্থিরতা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য এটাই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতাকে নিয়ে উপহাস করে বলেছিলেন, ‘চলুন ফ্রান্সে যাই। দারুণ একটা জায়গা। কোনো দাঙ্গা নেই, কোনো বিপ্লব নেই। অথচ দেখুন, ফ্রান্স যেন বিপ্লবের জন্য একেবারে আদর্শ জায়গা! অবিশ্বাস্য! চলুন ফ্রান্সে গিয়ে বিপ্লবে যোগ দিই।’
এদিকে রোববার ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছেন, ‘পাশ্চাত্যের উদারপন্থীরা বৈচিত্র্য ও সহানুভূতির দোহাই দিয়ে তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশে নিয়ে এসেছে। তারা আত্মীকরণ ও সামঞ্জস্যের মতো মৌলিক প্রশ্নগুলোকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।’
ফ্রান্সের সরকারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল উল্লেখ করে এক্সাবর্তায় ভ্যান্স আরও বলেন, ‘তাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে এমনটা ঘটতে পারে, কিন্তু তারা শোনেনি। আমি প্রার্থনা করি, ফ্রান্স- চমৎকার সব মানুষের এক সুন্দর দেশ- যেন আরও বেশি স্থাপনা পুড়ে ছাই হওয়ার আগেই এই পাগলামি থামিয়ে দেয়। আশা করি, মার্কিনিরা বিষয়টি খেয়াল করছেন। ডেমোক্র্যাটরা আপনাদের দেশের জন্য ঠিক এমন ভবিষ্যৎই চায়।’
সময়ের আলো/মহু