ঘুসের ভিডিও ধারণ করায় ব্যবসায়ীকে মারধর। ছবি : সময়ের আলোবরিশালের উজিরপুরে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুস লেনদেনের অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের জেরে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মারধর এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মিরাজ হোসেনের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক ও দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ আহমেদ ওরফে সবুজ এবং ভূমি অফিসের অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধা তাকে দুই থেকে তিন ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করেন এবং ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দেন। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগের সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ ও ছয়টি স্থিরচিত্রও জমা দিয়েছেন মিরাজ।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) লিখিত অভিযোগে মিরাজ হোসেন উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে উজিরপুর উপজেলায় কম্পিউটার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তার নিকটাত্মীয়দের নামজারি ও মিউটেশনের কাজের জন্য ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানমের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। পরে কাজের অগ্রগতি জানতে গেলে তাকে বারবার ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে কাজ সম্পন্ন করতে টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়।
মিরাজের অভিযোগ, কয়েক দফায় টাকা দেওয়ার পরও তার কাজ সম্পন্ন হয়নি। পরে নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগ দেওয়ার পর সুরাইয়া খানমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে টাকা ছাড়া কাজ হবে না বলে তাকে জানানো হয়। একপর্যায়ে আরও বেশি টাকা দাবি করে তা অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধার কাছে দিতে বলা হয়।
অভিযোগে মিরাজ আরও উল্লেখ করেন, আগে টাকা দেওয়ার প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলে জানালে সুরাইয়া খানম সেই প্রমাণ দেখতে চান। পরে তিনি সুরাইয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ পাঠান। এরপর সুরাইয়া খানম ও রাসেল মৃধা তাকে ডেকে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন বলে দাবি করেন তিনি।
মিরাজের ভাষ্য, একপর্যায়ে মো. আজিজুল সিকদার নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে ডেকে সবুজের চেম্বারে নেওয়া হয়। সেখানে রাসেল মৃধা ও সবুজ তাকে আটকে রেখে মারধর করেন। প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা তাকে আটকে রাখা হয়। এ সময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়ার পাশাপাশি ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দেওয়া হয় এবং হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে তিনি অভিযুক্তদের কাছে ক্ষমা চান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উজিরপুর মডেল থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মিরাজ। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানম বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। আমি এর লিখিত জবাব দেব। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।
অভিযোগ অস্বীকার করে অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধা বলেন, আমি ওই ভিডিওতে নেই। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে আমাদের অফিসে নামজারির দালালি করতে আসেন।
এ বিষয়ে উজিরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানম বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
সময়ের আলো/জোই