প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ছবি : সময়ের আলোকুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ৪৭ জন অস্থায়ী কর্মচারীর ৪ মাসের বকেয়া বেতন ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের টেন্ডার বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ওয়ার্ল্ড সিকিউরিটি সলিউশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে জনপ্রতি তিন লাখ টাকা দাবির অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল চারটায় কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী কর্মচারী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে কর্মরত থাকলেও গত চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। আগের কর্মচারীদের বহাল রাখার আশ্বাসে তারা কাজ চালিয়ে গেলেও নতুন করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড সিকিউরিটি সলিউশন লিমিটেড প্রত্যেক কর্মচারীর কাছে তিন লাখ টাকা করে দাবি করছে। টাকা না দিলে তাদের পরিবর্তে নতুন লোক নিয়োগের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৪৭ জন কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ জুন তাদের চাকরির মেয়াদ নবায়ন না করে গত ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন করে ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ঢাকার কুড়িল চৌরাস্তা এলাকার ওয়ার্ল্ড সিকিউরিটি সলিউশন লিমিটেড কাজটি পায় বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে আবেগাপ্লুত হয়ে কয়েকজন কর্মচারী বলেন, তাদের আয়ের ওপর স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা নির্ভরশীল। চাকরি হারালে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়বেন তারা। তাই টেন্ডার প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান তারা।
ওয়ার্ল্ড সিকিউরিটি সলিউশন লিমিটেডের পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, স্থানীয় একটি চক্র আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্নের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আমরা কারো কাছে কোনো অর্থ দাবি করি নাই। যে ৪৭জন কর্মচারী নিয়োজিত আছেন তারাই নিয়োগ পাবেন। তাদের রিজিক আমরা নষ্ট করব না। সবকিছু সরকারি নিয়ম মেনে করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক নুরে নেওয়াজ বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হইনি। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
সময়ের আলো/আতা