প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ পিএম
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবাদি জমির চারপাশে ইউক্যালিপটাস গাছের চারা রোপণ। ছবি : সময়ের আলোপঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবাদি জমির চারপাশ দিয়ে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস গাছের চারা রোপণের অভিযোগ উঠেছে। এতে আশপাশের জমির চা, বেগুন ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোম্পানীজোত এলাকায় শামীম আল মামুন নামে এক ব্যক্তি তার প্রায় এক বিঘারও বেশি জমির সীমানা জুড়ে এসব নিষিদ্ধ চারা রোপণ করেছেন।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ চা বাগান, বেগুন ও ধানের ক্ষেত। এর মাঝখানে শামীম আল মামুনের মালিকানাধীন ফাঁকা জমির চারপাশ ঘিরে সারিবদ্ধভাবে ইউক্যালিপটাস চারা লাগানো হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এই গাছ মাটি থেকে অতিরিক্ত পানি ও পুষ্টি শোষণ করে নেয়, যার ফলে কয়েক মিটারের মধ্যে থাকা অন্য কোনো ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে না। গাছগুলো বড় হলে পার্শ্ববর্তী চা বাগান ও সবজি ক্ষেতে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করা স্থানীয় এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, আমরা জানি এই গাছ ফসল ও পরিবেশের জন্য বিষ। সরকার এই গাছ লাগানো নিষিদ্ধ করেছে। অথচ আমার পাশের জমির মালিক দেদারসে এই চারা লাগিয়েছেন। আমি অনেক টাকা খরচ করে আবাদ করেছি, এখন ফলন নিয়ে আতঙ্কে আছি।
পরিবেশ ও কৃষি রক্ষায় গত বছরের ১৫ মে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা রোপণ, উত্তোলন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর পরিবর্তে দেশীয় প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছ লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হলেও তেঁতুলিয়ার এই এলাকায় তা মানা হচ্ছে না।
বিষয়টির ব্যাপারে জানতে চাইলে জমির মালিক শামীম আল মামুন দম্ভোক্তি করে বলেন, আমি গাছ রোপণ করেছি। প্রশাসন আসুক, তারা এসে গাছ তুলে দিক।
তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনসুর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী কৃষকরা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমি সরেজমিন খোঁজ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি বিস্তারিত অবগত করেছি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নিষিদ্ধ এই গাছের চারা দ্রুত উপড়ে ফেলে পরিবেশ ও সাধারণ কৃষকদের ফসলি জমি রক্ষা করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সময়ের আলো/আতা