প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও লুটপাট ঠেকাতে স্থানীয় মেয়রদের নিজ নিজ এলাকায় আংশিক কারফিউ জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সুরক্ষায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকরনু।
সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘মানুষ জানতে চায়, কীভাবে আমাদের দেশে এই সহিংসতার সৃষ্টি হলো।’
সরকারের এই উদ্যোগের আওতায় পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় স্থানীয়ভাবে আংশিক কারফিউ কার্যকর করা হবে। তবে কোন কোন শহরকে এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং জনসেবার অবনতিশীল মান নিয়ে ক্ষোভ থেকে শনিবার ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এরপর রোববার বিকেলে রাজধানী প্যারিস ও মার্সেইয়ে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। পুলিশ বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভের সময় দাঙ্গা ও সহিংসতার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকরনু জানিয়েছেন, যারা সম্পত্তির ক্ষতি করেছেন, তাদের দিয়েই সেই ক্ষতির মেরামতের ব্যয় বহনের ব্যবস্থা করতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে। এ ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় যাঁদের আয় ও কাজকর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের আর্থিক সহায়তা দিতে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার মাধ্যমে বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী চলমান অস্থিরতার জন্য চরম বামপন্থি দলগুলোকে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এসব দল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সময়ের আলো/এসএকে