প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সেই সড়কই সংস্কার করা হলো মাত্র পাঁচ দিনে। ছবি : সময়ের আলোনয় মাসেও যে সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হয়নি, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সেই সড়কই সংস্কার করা হলো মাত্র পাঁচ দিনে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর ঝকঝকে সড়ক দেখে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তবে এই দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি কাজের গুণগত মান ও দীর্ঘসূত্রতার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরকে ঘিরে নগরজুড়ে যখন প্রস্তুতি ও উৎসবের আমেজ, তখন নগরের গুরুত্বপূর্ণ ডিসির মোড় থেকে লালকুঠির মোড় পর্যন্ত সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ হওয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফরে আসবেন। তার সফরের আগে গত ১৫ অক্টোবর থেকে সড়ক সংস্কারে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়। এরপর দিনরাত কাজ করে সোমবারের মধ্যে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হয়। প্রায় ১ হাজার ১৫০ মিটার দীর্ঘ সড়কটির সংস্কার ও পাশ দিয়ে নালা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা।
স্থানীয় দোকানিরা জানান, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছিল। গত জানুয়ারিতে সংস্কারকাজ শুরু হলেও ফেব্রুয়ারি-মার্চে পিচ ও ইট তুলে ফেলার পর দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ ছিল। পুরোনো ইট ভেঙে খোয়া তৈরি করে সড়কে ফেলার পরও কাজ এগোয়নি। এতে পথচারী, যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দিয়েও কাজের অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়কের পাশের তিনজন দোকানি বলেন, নয় মাসে যে কাজ হয়নি, পাঁচ দিনে সেই কাজ শেষ হয়েছে। রাতেও শ্রমিকেরা কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে কাজের এমন গতি দেখে আমরা অবাক হয়েছি। তবে দ্রুত কাজ শেষ হওয়ায় সড়কটি আবার অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায় কি না, সেটিও দেখার বিষয়।
সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিক মো. জোবাইদুল ইসলাম বলেন, পাঁচ দিন ধরে দিনরাত কাজ করে তারা সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করেছেন।
কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ার বিষয়ে ঠিকাদার খায়রুল কবির বলেন, সড়কে বিভাজক থাকবে কি না, সে সিদ্ধান্ত পেতে সময় লেগেছে। এ ছাড়া বর্ষার কারণেও কাজ করতে দেরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই সড়ক ব্যবহার করবেন বলে সিটি করপোরেশনের নির্দেশে দ্রুত কাজ শেষ করতে হয়েছে। তার দাবি, দ্রুত কাজ শেষ হলেও সড়কের গুণগত মান ঠিক রাখা হয়েছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের নগর-পরিকল্পনাবিদ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সড়কটির কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে ঠিকাদারকে দিনরাত কাজ করে দ্রুত সংস্কার শেষ করতে বলা হয়েছে। কাজের গুণগত মান নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে সিটি করপোরেশন তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর মাত্র পাঁচ দিনে সড়ক সংস্কার শেষ হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নগরজুড়ে প্রস্তুতির আবহে সড়কটির দ্রুত সংস্কার প্রশংসা কুড়ালেও নগরবাসীর প্রত্যাশা, সফর উপলক্ষে নেওয়া এই তৎপরতা যেন সাময়িক উদ্যোগে সীমাবদ্ধ না থাকে। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত উন্নয়নকাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে আর এমন দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়তে হবে না তাদের।
সময়ের আলো/আতা