প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং ইসলামি আইনের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে ‘জনসাধারণের নৈতিকতা’ রক্ষার কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের ওপর কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে সৌদি আরব। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের কারণে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি বছর সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই বিদেশি নাগরিক।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি সৌদি আরব। ২০২৫ সালে দেশটিতে ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যা চীন ও ইরানের পর বিশ্বে সর্বোচ্চ বলে সংস্থাটির পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, গত সপ্তাহে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট আনুজন সিভরাসা (২৭) নামের এক শ্রীলঙ্কান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছেন। ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল।
শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমাচন্দ্র মৃত্যুদণ্ড বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল হলেও ওই তরুণ এখনো কারাগারে রয়েছেন। তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল, যা প্রায় ৮ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, জরিমানা করা হয়েছে।
একই সপ্তাহে মসজিদ প্রাঙ্গণে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। তবে ওই দুই ব্যক্তি ঠিক কী ধরনের অপরাধ করেছিলেন, কিংবা তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি রিয়াদ।
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক প্রয়োগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের কারণে কঠোর শাস্তি এবং বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে