বিনিয়োগকারীরা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঢাকা

2026-10-19T23:42:27+00:00
2026-10-19T23:42:27+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা
বিনিয়োগকারীরা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে চারটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের যাচাই করা অনিষ্পন্ন দাবির বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

একই সভায় ছয়টি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজারে কাজ করার জন্য নিবন্ধনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক সংকটে থাকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘাটতি পূরণের সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে কমিশন। সোমবার বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতে অভিযুক্ত চার প্রতিষ্ঠান হলো- বাংকো সিকিউরিটিজ লিমিটেড, তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের যাচাই-বাছাই শেষে যেসব দাবি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, সেগুলোর বিপরীতে প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে একজন বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পাবেন। তবে কবে নাগাদ অর্থ বিতরণ শুরু হবে এবং মোট কতজন বিনিয়োগকারী ক্ষতিপূরণের আওতায় আসবেন, সে বিষয়ে কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

কমোডিটি ডেরিভেটিভস ব্রোকার হতে ছয় প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন
এদিকে পণ্যভিত্তিক ডেরিভেটিভস বাজারে ব্রোকার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ছয়টি স্টক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি। এগুলো হলো- সোহেল সিকিউরিটিজ, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ, এনএলআই সিকিউরিটিজ, বি রিচ, পিএইচপি স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ এবং ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ।

প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের ভিত্তিতে এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশ পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে লেটার অব ইনটেন্ট বা অভিপ্রায়পত্র ইস্যু করা হবে। এই অনুমোদনকে কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজারে ব্রোকার হিসেবে কাজ করার নিবন্ধন প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা চালু রাখার সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ ব্যাংক ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধীন পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট ১২টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। কমিশনের মূল্যায়নে দুটি স্টক ব্রোকারেজ এবং দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদ পর্যাপ্ত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যায়ন সূচকেও প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা সন্তোষজনক হওয়ায় তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া স্টক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড এবং এভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। অন্যদিকে মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

ঘাটতি পূরণে সাত প্রতিষ্ঠানকে সময় দিল বিএসইসি
নিট সম্পদসহ বিভিন্ন আর্থিক সূচক এবং সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান পরিপালনে ঘাটতি থাকায় পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সাত প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ দিয়েছে কমিশন। এসব প্রতিষ্ঠানকে ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার শর্ত পূরণ করতে হবে।

সময়সীমার আওতায় থাকা চারটি স্টক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান হলো- প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড এবং পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

এ ছাড়া আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড নামের দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠান এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড নামের একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে একই সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় ঘাটতি পূরণ ও বিধিবিধান পরিপালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফ্যাস ক্যাপিটালকে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত সময়
ফ্যাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের আর্থিক ঘাটতি নিরসন এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান পরিপালনের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারণ করেছে বিএসইসি।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিট সম্পদের ঘাটতি পূরণ এবং প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   বিনিয়োগকারীরা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন 


Advertisement
Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: