মাহদী আমিন ও ইশরাক হোসেন। ছবি : সংগৃহীতমুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, জনবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে গিয়েও বিতর্ক তৈরি হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে। তার মতে, সরকারের বার্তা এখানে স্পষ্ট।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। পবিত্র ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘এখান থেকেই জানতে পারলাম, প্রিয় ভাই ও রাজপথের আপসহীন লড়াইয়ের অন্যতম মুখ ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন।’
ইশরাকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ইশরাকের ভূমিকা এবং তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য সবার জানা। বিএনপির ইয়ুথ এনগেজমেন্ট, কূটনৈতিক যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কাজেও তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দেশপ্রেমকে ইশরাক যেভাবে ধারণ করেন, তা অনন্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইশরাকের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন বা মতভিন্নতা থাকতে পারে বলে স্বীকার করেন মাহদী আমিন। তবে যে উদ্যোগকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার লক্ষ্য, নৈতিকতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে ন্যূনতম দ্বিধার অবকাশ নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের জবাবদিহির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র লেখেন, ‘জনগণের সরকারের বার্তা এখানে অনেকটাই স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থাভাজন, ত্যাগী ও জনপ্রিয় একজন তরুণ নেতার সাহসী ও জনবান্ধব উদ্যোগের বাস্তবায়নেও যদি কোনো বিতর্কের অবকাশ থাকে, সেখানেও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথযাত্রায় সামনের দিনগুলোতেও, সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে দায়বদ্ধতার ধারা বজায় থাকবে।’
ইশরাকের পদত্যাগকে রাজনৈতিক যাত্রার সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন না মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘ইশরাক হোসেনের এই ঐতিহাসিক, অভূতপূর্ব পদত্যাগ মোটেই কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়। বরং আত্মোপলব্ধি, সংশোধনী ও গণমানুষের ভালোবাসায় সামনে তার জন্য আরও বৃহত্তর ও গণমুখী রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পথ উন্মোচিত হতে পারে।’
এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র তাঁর পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা জানায়।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার পর ইশরাককে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েকজনকে আটক করার নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। এ সময় তাঁর দেহরক্ষীরাও কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। ভিডিওতে একজনকে গুলি করার হুমকি দিতে শোনা যায়। এক দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে কাউকে আটক করতে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ভিডিওটি ইশরাকের ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সময়ের আলো/জেডি