প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৬ এএম
মধ্য গাজার দেইর এল-বালাহতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অর্থায়নে পরিচালিত একটি লঙ্গরখানা থেকে খাবার গ্রহণের জন্য শিশুরা অপেক্ষা করছে। ছবি : সংগৃহীত গাজায় মানুষের জীবন ‘চরম ভয়াবহ ও বিপজ্জনক’ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান কার্ল স্কাউ। তার ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে গাজায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০টি ইসরায়েলি হামলার তথ্য নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘের দলগুলো।
সম্প্রতি ইসরায়েল-অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজা ও পশ্চিম তীর সফর শেষে এক ভিডিও ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্কাউ।
এর আগে জাতিসংঘ জানায়, তহবিলের তীব্র সংকটের কারণে গাজায় পাঁচ লাখ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুই লাখ ফিলিস্তিনির জন্য খাদ্যসহায়তা কমাতে হয়েছে।
স্কাউ বলেন, এখন থেকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যাদের, তাদের খাদ্যসহায়তা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেবে ডব্লিউএফপি। এ তালিকায় রয়েছেন অসুস্থ ব্যক্তি, অপুষ্টির ঝুঁকিতে থাকা মা ও শিশু এবং ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকার সীমা নির্দেশকারী ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছাকাছি বসবাসকারীরা।
সংকট আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। গত সপ্তাহে গাজায় খাদ্যসহ বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের চালান বন্ধ করে দেয় তারা।
অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সহিংসতা পরিস্থিতিকে মানবাধিকার ও নিরাপত্তা সংকট থেকে খাদ্যসংকটে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেন স্কাউ। তিনি বলেন, গত তিন বছরে সেখানে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
স্কাউয়ের হিসাবে, পশ্চিম তীরে এখন প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনির খাদ্যসহায়তা প্রয়োজন।
সফরের সময় পুড়ে যাওয়া জলপাইবাগান, শরণার্থীশিবির ও গ্রাম দেখেছেন বলে জানান ডব্লিউএফপির ভারপ্রাপ্ত প্রধান। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে জলপাই সংগ্রহের প্রথম দুই সপ্তাহেই বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সংখ্যা গত বছরের পুরো সময়ের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।
সময়ের আলো/জেডি