প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৫ এএম
আব্দুল মোতালেব। ছবি : সময়ের আলোদুই কিডনি অচল হয়ে পড়েছে আব্দুল মোতালেবের। অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারেন না, অর্থাভাবে হচ্ছে না চিকিৎসা। এর মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বয়স্ক ভাতাও। কারণ, সরকারি নথিতে তিনি মৃত। অথচ জীবিত এই মানুষটি পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরএলাকার লোহাগাছ গ্রামে।
আব্দুল মোতালেবের অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্রে মৃত দেখানোর কারণে তিনি বিগত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। বন্ধ হয়ে গেছে বয়স্ক ভাতাও। সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতেও পড়তে হচ্ছে জটিলতায়। কয়েক মাস ধরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে ঘুরেও নিজেকে সরকারি নথিতে জীবিত করাতে পারেননি তিনি।
মোতালেব আব্দুল জলিলের ছেলে। এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ের বাবা তিনি। পেশায় কৃষক। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ তিনি। বর্তমানে তার দুটি কিডনিই অচল হয়ে পড়েছে। রক্তস্বল্পতার কারণে প্রতি মাসে শরীরে রক্ত নিতে হয়।
অসুস্থতা ও অর্থসংকটে একদিকে চলছে বেঁচে থাকার লড়াই, অন্যদিকে সরকারি নথিতে জীবিত হওয়ার চেষ্টা।
আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘শরীরের কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে, এখনো মরি নাই। এর মধ্যে সরকারি তালিকায় আমি মৃত। বয়স্ক ভাতার কিছু টাকা পেতাম, যেটা দিয়ে ওষুধ কিনে খেতাম, সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও সহায়তা চাইতে গেলে জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে। কিন্তু সরকারি তালিকায় মৃত হওয়ায় সব সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। বেঁচে থেকেও কাগজপত্রে মৃত এটাই আমার সবচেয়ে বেশি কষ্টের।’
মোতালেবের ছেলে মোশারফ হোসেন বলেন, বাবাকে কাগজপত্রে জীবিত দেখানোর জন্য বিভিন্ন দফতরে ঘুরেছেন। কিন্তু কোনো সমাধান পাননি। অসুস্থ বাবার চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা চাওয়ার সুযোগও তৈরি করতে পারছেন না তারা। দ্রুত সরকারি নথিতে বাবাকে জীবিত দেখানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভুঁইয়া বলেন, ‘এত দিন আমাকে কেউ বিষয়টি জানায়নি। এখন খোঁজ পেয়েছি। এটি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি।’
সময়ের আলো/জোই