‘ওপার থে‌কে একদল পয়সা দিচ্ছে, আরেকদল দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে’

রাজশাহী ব্যুরো

সারাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সীমান্তের ওপার থেকে প‌া‌লি‌য়ে যাওয়া স্বৈরাচার পয়সা দিচ্ছে, আর এই দে‌শে ব‌সে আরেক দল অস্থিরতা তৈরি

2026-10-20T19:24:43+00:00
2026-10-20T19:58:42+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
রাজশাহীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী
‘ওপার থে‌কে একদল পয়সা দিচ্ছে, আরেকদল দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে’
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ পিএম  আপডেট: ২০.১০.২০২৬ ৭:৫৮ পিএম
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সময়ের আলো
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সীমান্তের ওপার থেকে প‌া‌লি‌য়ে যাওয়া স্বৈরাচার পয়সা দিচ্ছে, আর এই দে‌শে ব‌সে আরেক দল অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখান থে‌কে অর্থ সরবরাহ করে জনগ‌ণের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত কর‌ছে। একটি দল আছে, যারা নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে মিথ্যে কথা বলে বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল। স্বৈরাচার ও এই দল মি‌লে তারা দেশের মধ্যে এখন‌ ‌বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

জনসভায় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ভাইয়েরা যাতে বেকার না থাকেন, সেজন্য সরকার গঠনের সাত মাসের মধ্যে সারাদেশে ৬টি বন্ধ মিল-কারখানা উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে চালু করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া সারাদেশের প্রায় ৪০ হাজার আখচাষির জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকার গঠনের সাত দিনের মাথায় ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে এবং এ বছরই ৪০ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সেচ ও পানির সংকট নিরসনে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে, যার মধ্যে গেল আট মাসে ৮০০ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা, পরিবেশ রক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি প্রদান এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


একাত্তর ও চব্বিশের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত ছাত্র ও সাধারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল। বিএনপি একুশ, একাত্তর ও চব্বিশকে ধারণ করে বলেই শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। গতকাল (সোমবার) সেই শহীদদের স্মরণে আমরা ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। যারা মুখে চব্বিশকে ধারণ করার কথা বলে, এমন সব রাজনৈতিক দলকে আমরা দাওয়াত দিয়েছিলাম। কিন্তু জুলাই শহীদদের সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। অর্থাৎ ১৯৭১ সালে তারা যেভাবে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তাদের মুখে এক কথা, আর কর্মে আরেক প্রতিফলন।

ষড়যন্ত্র রুখতে ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময়েও যখনই তারা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের কাজে হাত দিয়েছিলেন, তখনই দেশি-বিদেশি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করে গতিরোধ করার চেষ্টা করেছে। সেই কুচক্রী মহল আবার সজাগ হয়ে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তাই উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

দেশবাসীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সময় এসেছে বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন হবার। আজ থেকে আমাদের সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বাংলাদেশে আর কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে; বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।

রাজপথে বিশৃঙ্খলাকারীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা বিএনপি সরকার দেশে স্থিতিশীলতা আনতে ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি। আমরা দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিয়ে বন্ধ কলকারখানাগুলো চালু ও বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হয় এবং উৎপাদিত পণ্য বিদেশে যেতে পারে। কিন্তু এই কাজগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে একটি বিশেষ দল আরও কয়েকটি দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। তারা সরকারের জনবান্ধব কাজগুলোকে ধীর করে দিতে চাইছে। যারা এমন কর্মসূচি নেয় যাতে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন। সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও বিএমডিএর চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শরিফ উদ্দিন। এছাড়াও মঞ্চে কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জনসভা পরিচালনা করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।

সময়ের আলো/এনএন


  বিষয়:   ওপার থে‌কে  একদল পয়সা দিচ্ছে  আরেকদল দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে  রাজশাহী  জনসভা  প্রধানমন্ত্রী  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: