প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১২ পিএম
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সব উদ্যোগই যেন হিতে বিপরীত হয়ে উঠছে। ছবি : সংগৃহীতসৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সব উদ্যোগই যেন হিতে বিপরীত হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক সংকট ক্রমশ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে। দেশের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতা সুসংহত করা এই শাসকের জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে তার নেতৃত্বের পাশাপাশি সৌদি আরবের বিনিয়োগবান্ধব ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
২০১৫ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন এমবিএস। কিন্তু সেই হুতিরাই এখন সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। সম্প্রতি রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দম্মাম বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা আক্রমণের প্রভাব সৌদি আরবেও পড়ে। দেশটির তেল অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি ডলার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক সৌদি আরব জিডিপির ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে। তবু বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে ছড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বড় দুর্বলতা হয়ে উঠেছে।
নিরাপত্তাঝুঁকির পাশাপাশি অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য রয়েছে সৌদি আরবের। কিন্তু ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ কমে ৫.৯৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ২০২৬ সালে দেশটির জিডিপি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তরুণদের কর্মসংস্থান, তেলনির্ভরতা কমানো এবং সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও কঠিন হয়ে উঠছে।
এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং শাসনব্যবস্থায় ঐতিহ্যের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এমবিএস। তবে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিতে মানুষের আস্থা ধরে রাখাই এখন তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
সূত্র : দ্য ইকোনোমিস্ট
সময়ের আলো/এমকে