প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
রাতের আঁধারে এসব আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। চবি : সময়ের আলোচট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বটতলী মোটর স্টেশনের ময়লা-আবর্জনা ফেলে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চুনতি ইউনিয়নে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পশ্চিম পাশে বনপুকুর ও জাঙ্গালিয়া সংলগ্ন এলাকায় রাতের আঁধারে এসব আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আবর্জনা ফেলতে বাধা দেওয়ায় বনকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বটতলী শহর পরিচালনা কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কমিটির আহ্বায়ক কাজী নুরুল আলম চৌধুরী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ময়লা-আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধে অভয়ারণ্যের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পশ্চিম পাশে বনপুকুর ও জাঙ্গালিয়া এলাকায় অভয়ারণ্যের দুটি স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমেছে। দুর্গন্ধের কারণে পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। দিন দিন এসব স্তূপের আকারও বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে ডাম্প ট্রাকে করে প্রতিদিন এসব আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এভাবে আবর্জনা ফেলা অব্যাহত থাকলে অভয়ারণ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য খেয়ে বন্যপ্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকায় বিস্তৃত চুনতি অভয়ারণ্যের আয়তন প্রায় ৭ হাজার ৭৬৪ হেক্টর। ১৯৮৬ সালে সরকার এলাকাটিকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা করে। এখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৪৬৮ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও পাখি রয়েছে। এশীয় হাতির অন্যতম আবাসস্থল, প্রজননকেন্দ্র ও চলাচলের করিডোর হিসেবেও অভয়ারণ্যটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিপন্ন হাতির প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০১২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ‘ইকুয়েটর পুরস্কার’ লাভ করে চুনতি অভয়ারণ্য।
বটতলী শহর পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কাজী নুরুল আলম চৌধুরী বলেন, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে তাঁরা চুনতি অভয়ারণ্যের এলাকায় আবর্জনা ফেলছেন। তবে বন বিভাগের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। বনকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
চুনতি অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, অভয়ারণ্যের এলাকায় ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিষেধ করা হলেও তাঁরা তা মানছেন না। বরং আবর্জনা ফেলতে বাধা দেওয়ায় বটতলী শহর উন্নয়ন কমিটির লোকজন বনকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, বটতলী শহর উন্নয়ন কমিটিকে বন বিভাগের জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ।
সময়ের আলো/এনএন