ছবি : সংগৃহীতবিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয়ভাবে হেরে বিদায় নিয়েছিল মিসর। ম্যাচের পর রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। এবার সেই মন্তব্যের জেরে ফিফার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন তারা। কোচ হাসানকে তিন ম্যাচ এবং জিকোকে পাঁচ ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হাসানের যমজ ভাই ও মিসর জাতীয় দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানকেও তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) গতকাল এই শাস্তির কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির বিবৃতি অনুযায়ী, হোসাম ও ইব্রাহিম হাসান তিন ম্যাচ করে এবং জিকো পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। তবে নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত কারণ জানতে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে আবেদন করেছে ইএফএ। শাস্তির বিরুদ্ধে আপিলের আইনি দিকও খতিয়ে দেখছে তারা।
‘আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে’
আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হোসাম হাসান। তার অভিযোগ, মাঠের ভেতরের কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের কিছু বিষয় ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত করেছে।
হাসান বলেন, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।’
ম্যাচের ফল ও ঘটনার ধারাবাহিকতা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তব জীবন অন্যায্য হতে পারে, কিন্তু খেলাধুলায়ও কেন ন্যায্যতা থাকবে না?’ তার দাবি, মিসরের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে নিয়ে কটূক্তি করায় পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ফরোয়ার্ড জিকো।
২-০ গোলে এগিয়েও হার মিসরের
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে একসময় ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। তবে শেষ দিকে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, ৮৩ মিনিটে লিওনেল মেসি এবং যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন।
ম্যাচে ২-২ সমতা থাকার সময় পেনাল্টির আবেদন নাকচ হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল মিসর। এর আগে বিল্ডআপে ফাউলের অভিযোগে জিকোর একটি গোলও বাতিল করা হয়। এসব সিদ্ধান্ত নিয়েই ম্যাচের পর বিতর্ক তৈরি হয়।
তবে ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা রেফারির পক্ষ নিয়ে বলেছিলেন, এ ধরনের অভিযোগ রেফারি ও তাদের পরিবারের জন্য হুমকির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আফ্রিকা কাপের ম্যাচেও অনুপস্থিত থাকবেন দুই ভাই
এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী নভেম্বরে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস বাছাইপর্বে মালাউইয়ের বিপক্ষে পরবর্তী রাউন্ডের ম্যাচে হোসাম ও ইব্রাহিম হাসানকে পাবে না মিসর। মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে প্রথম ম্যাচেও তাদের অনুপস্থিত থাকার কথা। আর জিকোকে জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হতে পারে আগামী জুন পর্যন্ত।
এখন শাস্তির বিস্তারিত কারণ জানার অপেক্ষায় রয়েছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এরপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তারা।
সময়ের আলো/টিকে