ছবি : সংগৃহীতভালো উইকেট, রান তাড়ার যথেষ্ট সুযোগ— তবু ব্যাটিংয়ে ভরাডুবি বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় হারের পর তাই ব্যাটারদের ব্যর্থতার কারণ খুঁজছেন দলেরই ক্রিকেটাররা। পেসার তাসকিন আহমেদের পর এবার নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তার মতে, ব্যাটিং ইউনিটকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে, সেই সঙ্গে বদলাতে হবে মানসিকতাও। বড় লক্ষ্যকে একবারে তাড়া করার চাপ না নিয়ে ছোট ছোট ধাপে এগোতে পারলেই ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা ফেরানো সম্ভব বলে মনে করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে দলের ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতার অভাব ও গেম অ্যাওয়্যারনেস নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন তাসকিন। তার সেই বক্তব্যের সঙ্গে একমত তানজিদও। এই ওপেনারের মতে, লক্ষ্য তাড়া করার মতো ভালো উইকেট পেয়েও ব্যাটাররা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি।
তানজিদ বলেন, ‘উনি (তাসকিন) যেটা বলেছে সত্য কথা। আমরা আমাদের ব্যাটিং ইউনিটে দায়িত্ব নিতে পারিনি। উইকেট যথেষ্ট ভালো ছিল। আমার কাছে মনে হয় এই রান তাড়া করার মতো ছিল। যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছি আমার কাছে খুব ভালো লাগছিল। দুর্ভাগ্যবশত আউট হয়ে গেছি। তবে আমাদের সবারই দায়িত্ব নেওয়া উচিত এটা আমার মনে হয়।’
ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা ফেরাতে মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন তানজিদ। তার মতে, ৩০০ কিংবা সাড়ে তিনশ রানের লক্ষ্য দেখেই চাপ নেওয়ার পরিবর্তে ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগোতে হবে। এতে রান তাড়ার চাপ সামলানো সহজ হবে, পাশাপাশি ব্যাটাররাও নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারবেন।
তানজিদের বিশ্বাস, সঠিক মানসিকতা ও ধারাবাহিকতা একসঙ্গে কাজ করলে কঠিন পরিস্থিতিতেও ভালো ক্রিকেট খেলা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এটা মাইন্ডসেটের ব্যাপার। তিনশ বা সাড়ে তিনশ না ভেবে ছোট ছোট টার্গেট করে খেলি তাহলে জিনিসটা সহজ হবে। এভাবেই মেন্টালিটি সেট করতে হবে আমাদের। আমার মনে হয় ধারাবাহিকতা আর মাইন্ডসেট এখানে অনেক ইম্পরট্যান্ট। এই দুটো এক হলে স্পেশাল সিচুয়েশনে ভালো করতে পারব আমরা।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের ব্যাখ্যায় প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেদের পারফরম্যান্সের দিকেই বেশি নজর দিয়েছেন তানজিদ। তার মতে, জিম্বাবুয়ে ভালো খেলেছে বলেই শুধু বাংলাদেশ হেরেছে বিষয়টি এমন নয়; নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে না পারাটাও বড় কারণ। নিজেদের খেলার ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ মানের ক্রিকেট খেলতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব।
তানজিদের ভাষায়, ‘অবশ্যই মাইন্ডসেটে। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলিনি, ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। এ জন্যই ওরা জিতেছে, আমরা হেরেছি। যেদিন সেরাটা খেলতে পারব, সেরাটা দিতে পারব সেদিনই। আমাদের ব্র্যান্ড অনুযায়ী টপ ক্লাস ক্রিকেট খেলতে হবে।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হার বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের পুরোনো সমস্যাগুলো আবারও সামনে এনেছে। এখন সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে দল, সেটিই দেখার বিষয়। তানজিদের কথায় স্পষ্ট, ব্যাটিংয়ে উন্নতির জন্য শুধু কৌশল নয়, প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা, ধারাবাহিকতা এবং চাপ সামলানোর মানসিকতা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে