জুলাই গণঅভ্যুত্থান : রাজনাথ সিংয়ের দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা

শহীদুল্লাহ ফরায়জী

মতামত

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করে অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকারীরা ‘বাংলাদেশের মতো করে এখানেও

2026-10-21T02:20:12+00:00
2026-10-21T02:20:12+00:00
 
  বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
মতামত
জুলাই গণঅভ্যুত্থান : রাজনাথ সিংয়ের দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা
শহীদুল্লাহ ফরায়জী
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২০ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করে অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকারীরা ‘বাংলাদেশের মতো করে এখানেও ক্ষমতার পালাবদলের চেষ্টা’ করছেন। তার দাবি, ভারতের তরুণদের ‘অরাজক রাজনীতির দাবার ঘুঁটি’ বানিয়ে বাংলাদেশের আদলে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি আরও বলেছেন, আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। তার মতে, ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের মতো শব্দ থেকেই বোঝা যায়, এই আন্দোলন নির্বাচনী সংস্কারের জন্য নয়।

রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যের মৌলিক সমস্যা এখানেই। তিনি বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানকে জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে না দেখে, সহিংসতার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসের তাৎপর্যকেই খাটো করছেন না, জনগণের সার্বভৌমত্ব সম্পর্কেও নিজের রাজনৈতিক উপলব্ধির সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করছেন।

বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মর্মবস্তু উপলব্ধি করতে হলে একটি মৌলিক সত্য স্বীকার করতে হবে— জনগণ রাষ্ট্রের উৎস, জনগণের উৎস রাষ্ট্র নয়। রাষ্ট্র জনগণকে নির্মাণ করে না, জনগণই রাষ্ট্র নির্মাণ করে। রাষ্ট্র জনগণের অধিকার ও সম্মিলিত রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ; জনগণের ওপর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো চিরস্থায়ী লাইসেন্স নয়।

সরকার পতন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দৃশ্যমান ফল। কিন্তু এর গভীরতর তাৎপর্য হলো, জনগণ রাষ্ট্রক্ষমতার কর্তৃত্ববাদী ব্যবহারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের দাবি প্রতিষ্ঠা করেছে। এই ইতিহাসকে শুধু ‘ক্ষমতার পালাবদল’ কিংবা ‘অরাজকতা’ বলে ব্যাখ্যা করলে অভ্যুত্থানের রক্তস্নাত ইতিহাস এবং রাষ্ট্র রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষা— দুটিই আড়াল হয়ে যায়।

বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দার্শনিক ভিত্তি অনুধাবন করতে হলে রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্কের মৌলিক প্রশ্নটির মুখোমুখি হতে হবে। রাষ্ট্র কি জনগণের ওপর আরোপিত কোনো চূড়ান্ত কর্তৃত্ব, যার সিদ্ধান্তের কাছে জনগণকে নিঃশর্তভাবে নতিস্বীকার করতে হবে? নাকি রাষ্ট্র জনগণের সম্মিলিত রাজনৈতিক ইচ্ছা, অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ?

গণতান্ত্রিক দর্শনের উত্তর সুস্পষ্ট : জনগণ রাষ্ট্রের অধীন কোনো প্রজা-সমষ্টি নয়; জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস।

রাষ্ট্রের বৈধতা কেবল তার অস্তিত্ব, প্রশাসনিক সক্ষমতা কিংবা বলপ্রয়োগের ক্ষমতা থেকে আসে না। তার বৈধতার ভিত্তি জনগণের সম্মতি, অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌম অভিপ্রায়। রাষ্ট্র যখন সেই জনগণের ওপরই কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা প্রয়োগ করে, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত করে এবং জবাবদিহির পথ রুদ্ধ করে, তখন রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অস্তিত্ব ও তার গণতান্ত্রিক বৈধতার মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

সেই বিরোধের চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটতে পারে গণঅভ্যুত্থানে।

অতএব গণঅভ্যুত্থানকে নিছক সরকার পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক দর্শন অধরা থেকে যায়। সরকার পতন তার দৃশ্যমান ফল; কিন্তু তার গভীরতর তাৎপর্য হলো— জনগণ নিজেদের ওপর প্রতিষ্ঠিত অন্যায় রাজনৈতিক কর্তৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের সার্বভৌম ক্ষমতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা দাবি করে।

বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ছিল না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া প্রতিবাদ ক্রমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণপ্রতিরোধে রূপ নেয়। প্রাণহানি, দমন-পীড়ন ও রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে সেই প্রতিরোধ এক ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে পরিণত হয় এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে।

কিন্তু এই ইতিহাসের তাৎপর্য শুধু একটি সরকারের পতনে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্য দিয়ে জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্রক্ষমতার জবাবদিহি এবং রাষ্ট্রের মৌলিক রূপান্তরের প্রশ্ন সামনে আসে।

একটি সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই তার ক্ষমতা ন্যায়সংগত হয়ে যায় না। একটি প্রতিষ্ঠান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করছে বলেই তার প্রতিটি কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠে না। আর কোনো শাসকের হাতে রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা থাকলেই সেই ক্ষমতার ওপর জনগণের নৈতিক ও রাজনৈতিক দাবির অবসান ঘটে না।

রাজনাথ সিং যদি বাংলাদেশের ঘটনাকে শুধু সরকার পতনের কৌশল হিসেবে দেখেন, তবে তিনি ফলাফলকে দেখছেন, কিন্তু তার পেছনের ঐতিহাসিক কারণকে উপেক্ষা করছেন। আর যদি তিনি জনগণের অভ্যুত্থানকে আগেই ‘অরাজকতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন, তবে প্রশ্ন উঠবে— কোনো শাসনব্যবস্থা জনগণের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষাকে দীর্ঘদিন অস্বীকার করলে তার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের বৈধতা তিনি কোন মানদণ্ডে বিচার করবেন?

গণতন্ত্র কি কেবল নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে জনগণকে নীরব থাকার নির্দেশ দেয়? নাকি গণতন্ত্রের অর্থ জনগণের অব্যাহত রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, ক্ষমতার জবাবদিহি এবং শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অধিকারও?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এড়িয়ে বাংলাদেশের অভ্যুত্থানকে অরাজকতার প্রতিশব্দ বানানো রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নয় বরং ইতিহাসের জটিল বাস্তবতাকে একটি সুবিধাজনক বয়ানে সংকুচিত করা।

রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা লক্ষ্যণীয় : সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সরকার পরিবর্তনের দাবি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের প্রচেষ্টাকে প্রায় একই অর্থে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অথচ এগুলো এক বিষয় নয়।

সরকার পরিবর্তনের দাবি নিজে থেকে গণতন্ত্রবিরোধী নয়। কোনো সরকারকে অপসারণের দাবি মানেই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ষড়যন্ত্র নয়। বরং কোনো সরকারের বৈধতা, নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটার তালিকার নিরপেক্ষতা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলাও গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ।

এখানে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে— রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা আর ক্ষমতাসীন সরকার রক্ষা করা এক বিষয় নয়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য; জনগণকে প্রতিষ্ঠানের নামে প্রশ্নহীন আনুগত্যে বাধ্য করার জন্য নয়।

ভারতের চলমান আন্দোলন সম্পর্কে রাজনাথ সিংয়ের অভিযোগের সত্যতা ও আন্দোলনকারীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য পর্যালোচনার বিষয়। কিন্তু সেই বিতর্কের নিষ্পত্তি বাংলাদেশের অভ্যুত্থানকে অরাজকতা হিসেবে চিহ্নিত করার মাধ্যমে হতে পারে না। ভারতের আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারেন; তাতে তাদের প্রত্যেকটি দাবি বা কর্মসূচি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঠিক প্রমাণিত হয় না, আবার কেবল বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কারণে তাদের আন্দোলন সংগ্রামের গণতান্ত্রিক অধিকারও বাতিল হয়ে যায় না।

বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের পেছনে রয়েছে মানুষের আত্মত্যাগ, তরুণদের সাহস এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এক অসাধারণ ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতাকে অন্য কোনো দেশের রাজনৈতিক বিরোধের সুবিধামতো ভয়াবহতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হলে তার ইতিহাস বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

জুলাইয়ের রক্তক্ষয় কোনো অলংকার নয়, কোনো রাজনৈতিক প্রচারের উপকরণও নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মানুষের জীবন, পরিবারের শোক, নাগরিকের অধিকার এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা। এই আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন করতে হলে অভ্যুত্থানের কারণ, জনগণের প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্র রূপান্তরের অসমাপ্ত প্রশ্নগুলোকে স্বীকার করতে হবে।

বাংলাদেশের অভ্যুত্থানকে সম্মান করার অর্থ এই নয় যে— তার পরবর্তী প্রতিটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রশ্নাতীত বলে মেনে নিতে হবে। বরং অভ্যুত্থানের প্রকৃত সম্মান নিহিত রয়েছে তার গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে— রাষ্ট্রকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ করা, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন রোধ করা এবং নাগরিকের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

এই বিচার বাংলাদেশের জনগণ ও ইতিহাসের কাছে বাংলাদেশেরই দায়। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যুত্থানকে যখন ভারতের একজন শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী রাজনৈতিক অভিযোগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন, তখন সেই বক্তব্যের রাজনৈতিক ও নৈতিক জবাব দেওয়ার দায়ও এড়ানো যায় না।

রাজনাথ সিংয়ের কাছে প্রশ্ন— বাংলাদেশের অভ্যুত্থান যদি কেবল অরাজকতার দৃষ্টান্ত হয়, তবে দীর্ঘস্থায়ী কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধকে তিনি কোন ভাষায় ব্যাখ্যা করবেন? জনগণের সম্মতি হারানো সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখাই কি গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা? আর জনগণের সম্মিলিত প্রতিবাদে সেই সরকারের পতন ঘটলে সেটিই কি অরাজকতা?

এই দ্বৈত মানদণ্ড গণতন্ত্রের কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হতে পারে না।

বাংলাদেশের জনগণ তাদের ইতিহাস নিজেরাই নির্মাণ করেছেন। সেই ইতিহাসের তাৎপর্য উপলব্ধি করার জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে কোনো বিদেশি রাজনৈতিক নেতার অনুমোদন প্রয়োজন নেই। গণঅভ্যুত্থানের ন্যায্যতা নির্ধারিত হবে না দিল্লির রাজনৈতিক সুবিধা কিংবা কোনো ক্ষমতাসীন দলের বক্তব্য দিয়ে।

তবে অন্য দেশের অভ্যুত্থান সম্পর্কে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতি সম্মান দেখানো প্রত্যেক দায়িত্বশীল নেতার কর্তব্য। রাজনাথ সিং সেই দায়িত্ব পালন করছেন কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন।

বাংলাদেশের অভ্যুত্থানকে যারা কেবল সরকার পতনের ঘটনা হিসেবে দেখেন, তারা এর গভীরতম রাজনৈতিক বার্তাটি ধরতে পারেন না। আর যারা জনগণের প্রতিরোধকে আগেভাগেই অরাজকতা বলে বাতিল করেন, তারা রাষ্ট্রের ক্ষমতার চেয়ে জনগণের সার্বভৌমত্বকে কম গুরুত্ব দেওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন।

রাষ্ট্র জনগণের ঊর্ধ্বে নয়। সরকার রাষ্ট্রের সমার্থক নয়। আর রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার বিকল্প হতে পারে না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক শিক্ষা এখানেই— জনগণ রাষ্ট্রের ক্ষমতার উৎস, রাষ্ট্র জনগণের মালিক নয়। রাষ্ট্রের বৈধতা জনগণের সম্মতি ও অধিকার থেকে আসে; জনগণের ওপর রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব থেকে নয়।

রাজনাথ সিংকে বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের এই দর্শন স্বীকার করতেই হবে— এমন কোনো বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের জনগণের নেই। কিন্তু তিনি যদি বাংলাদেশের ইতিহাসকে নিজের রাজনৈতিক বক্তব্যের উপকরণ করেন, তবে সেই বক্তব্যের অসংগতি উন্মোচন করা বাংলাদেশের মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অধিকার।

জুলাইয়ের আত্মত্যাগের মাহাত্ম্য কোনো বিদেশি নেতার স্বীকৃতির ওপর নির্ভরশীল নয়। সেই মাহাত্ম্যের বিচার করবে ইতিহাস, আর তার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণের দায় বহন করবে বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্র।

জনগণ রাষ্ট্রের জন্য নয়; রাষ্ট্র জনগণের জন্য। জনগণের সার্বভৌমত্বই গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য অনুধাবন করতে হলে এই সত্যকে স্বীকার করেই রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে মূল্যায়ন করতে হবে।

গীতিকবি
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
  বিষয়:   জুলাই  গণঅভ্যুত্থান  রাজনাথ সিং  দৃষ্টি  সীমাবদ্ধতা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: