১৪ বছর পর ভাঙল ঘুম, গচ্ছা ৩ হাজার কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক ও গাজীপুর প্রতিনিধি

জাতীয়

ঢাকা থেকে গাজীপুরে দ্রুত ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতের স্বপ্ন দেখিয়ে ২০১২ সালে শুরু হয়েছিল বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। ২০১৬ সালে

2026-10-21T02:50:49+00:00
2026-10-21T02:51:25+00:00
 
  বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
১৪ বছর পর ভাঙল ঘুম, গচ্ছা ৩ হাজার কোটি
নিজস্ব প্রতিবেদক ও গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫০ এএম  আপডেট: ২১.১০.২০২৬ ২:৫১ এএম
চার বছরের প্রকল্প ১৪ বছর চলছে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্প। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা থেকে গাজীপুরে দ্রুত ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতের স্বপ্ন দেখিয়ে ২০১২ সালে শুরু হয়েছিল বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। ২০১৬ সালে কাজ শেষ করে পরের বছর বাস চালুর কথা থাকলেও বাস্তবে চালু হয়নি বিশেষ বাসসেবা। উল্টো দীর্ঘ নির্মাণযজ্ঞে যানজট, ধুলাবালি ও জলাবদ্ধতায় বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে মানুষকে। পরিকল্পনা ও নকশার ত্রুটি, সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগের মধ্যে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাতিল করে বিদ্যমান অবকাঠামোকে সাধারণ মহাসড়কে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তবে অবকাঠামোর ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার দাবি তুলে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। অন্যদিকে প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনার সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়, দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ আর বাস্তবায়ন ব্যর্থতার দায় কার— সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে গাজীপুরের বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। পরদিন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জারি করা এক পত্রে সভার আলোচনায় বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিআরটি করিডোরের স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করে সড়কটিকে তিন থেকে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি দুই লেনের উড়ালসড়ককে চার লেনে রূপান্তর করার কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৪ বছর ধরে নির্মাণকাজ চলেছে। ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। অথচ যে বিশেষ বাস চালানোর জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল, সেই বাসই চালু হয়নি। উল্টো ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পযন্ত ২০ কিলোমিটার পথে যানজট ও মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জারি করা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট উন্নয়নসহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত জটিলতা নিরসন এবং প্রকল্প বন্ধের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নিতে বলা হয়েছে। বিআরটি পরিচালনার জন্য গঠিত ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি বন্ধ করে এর কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) আওতায় নেওয়ার প্রস্তাবও গ্রহণ করেছে মন্ত্রিসভা। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় চারটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়— ১. প্রকল্পটি বাতিল করে দেওয়া; ২. অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে বিআরটি বাস কিনে চলাচলের ব্যবস্থা করা; ৩. বিআরটি পথটি যেভাবে আছে সেভাবেই রেখে বিশেষ বাস ও বিদ্যমান বেসরকারি বাস চলতে দেওয়া এবং ৪. বিআরটি পথটিকে টোলের আওতায় এনে পরিচালনা করা। শেষে সরকার প্রকল্পটি বাতিল করে সাধারণ মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বিদ্যমান স্টেশন, বিআরটি লেন আলাদা করার জন্য নির্মাণ করা বিভাজক ভেঙে ফেলতে হবে। উড়ালপথ ভবিষ্যতে সম্প্রসারণ করা হবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উত্তরা থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত আরেকটি বিআরটি পথ নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু গাজীপুর-বিমানবন্দর পথটি সময়মতো চালু না হওয়ায় দ্বিতীয় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে গাজীপুর-বিমানবন্দর অংশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ ছাড়া বাংলাদেশে বিদ্যমান বাসগুলোর দরজা বাঁ দিকে। কিন্তু বিআরটি লেনে স্টেশনগুলো এমনভাবে তৈরি যে বাসের দরজা হবে ডান দিকে। অবশ্য বিশ্বব্যাপী বিআরটি লেনে দরজা ডান দিকেই থাকে। ডান দিকে দরজাওয়ালা বাস চালু করলে ওই বাসগুলো গাজীপুর-বিমানবন্দরের বাইরে চলতে পারবে না।

জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ২০১২ সালে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্প নিয়েছিল। এর মধ্যে ১৫ দশমিক শূন্য ৭ কিলোমিটার সড়কপথ, বাকিটা উড়ালপথ। সড়কের মাঝখানে দুটি পৃথক লেনে বিশেষ বাস চালানোর পরিকল্পনা ছিল। প্রকল্প চালু হলে দিনে প্রায় ২৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে বলে বলা হয়েছিল। প্রত্যাশা ছিল বাসগুলো যানজট, সিগন্যাল কিংবা অন্য বাধায় আটকে থাকবে না। মূলত বিদেশি অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পাশাপাশি এতে অর্থায়ন করছে ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) এবং গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)।

প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে নির্মাণকাজ শেষ করে ২০১৭ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় দরজার বিশেষ বাস চালুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। তিন দফা সংশোধনে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা।

২০২৫ সালে প্রকল্পটি চতুর্থবার সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে ব্যয় বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত করার কথা বলা হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন করেনি। বরং প্রকল্পের বিকল্প খুঁজতে এবং নকশাগত ত্রুটির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কের মাঝখানে ১৫টি স্টেশন অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তবে কোনো স্টেশনের কাজই পুরোপুরি শেষ হয়নি। যাত্রীদের ওঠানামার জন্য নির্মিত কয়েকটি পদচারী সেতুতে চলন্ত সিঁড়ি ও লিফট রয়েছে। কিন্তু এসব স্থাপনার এখন আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কোথাও যন্ত্রপাতিতে জং ধরেছে, কোথাও অবকাঠামো ভেঙে পড়ছে।

এ ছাড়া বিআরটি লেন আলাদা করতে সড়কের মাঝখানে সিমেন্টের প্রতিবন্ধক বসানো হয়েছে। কিছু স্থানে লোহার বেড়া দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে সড়কের জায়গা কমেছে। কোথাও উড়ালপথ, কোথাও সমতল সড়ক, আবার কোথাও সরু লেন থাকায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানায়, পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা ও নকশা শেষ হওয়ার আগেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। নির্মাণকাজ শুরুর পর দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় যথাযথ পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন সরানোর পরিকল্পনাও আগে থেকে করা হয়নি। ব্যস্ত সড়কে নির্মাণকাজ চলার সময় যানবাহন সচল রাখার বিকল্প ব্যবস্থাও ছিল না।

গাজীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ জনান, আমরা এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো চিঠি পাইনি। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখেছি। অফিসিয়ালি চিঠি পেলে বুঝতে পারব কী করতে হবে। আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে আমরা সেভাবেই কার্যক্রম করব।

প্রকল্প বাতিলের পক্ষে বিশেষজ্ঞরা : বিআরটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই সিদ্ধান্তের আগে প্রকল্পটির কারিগরি দিক পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি বিশেষজ্ঞ দল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক। গত বছর অক্টোরে তারা সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের গঠিত দুটি কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল করে বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নত মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করে।

প্রতিবেদনে প্রকল্পটিকে দেশের অবকাঠামো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ‘পদ্ধতিগত ব্যর্থতার’ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যথাযথ কারিগরি যাচাই, দক্ষ জনবল ও জবাবদিহির অভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মত দিয়েছে দলটি। প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নকশায় ত্রুটি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কথাও বলা হয়েছে।

বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সম্ভাব্য যতগুলো বিকল্প আছে, এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো বিকল্প হচ্ছে প্রকল্পটি বাতিল করা। তবে ১৪ বছর গাজীপুরবাসীসহ এই পথের যাতায়াতকারীরা দুর্ভোগ সহ্য করেছেন। তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত। তিনি বলেন, বিআরটি বাস চালু হলে গাজীপুরবাসী শুধু বিমানবন্দর পর্যন্ত আসতে পারত। তাদের পুনরায় বাস বদল করার দরকার হতো, যা বাস্তবসম্মত নয়।

বিআইপির উদ্বেগ : বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ও পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান মঙ্গলবার বিবৃতিতে জানান, সরকার বিআরটি প্রকল্প বাতিল, সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিলুপ্ত এবং পুরো অবকাঠামোকে ৩+৩ লেনের মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মতে, ১৮ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিআরটি নিয়ে সবচেয়ে খারাপ বিকল্পটি বেছে নেওয়া হয়েছে। বৈঠক-পরবর্তী নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিদ্ধান্তটি না জানানোয় সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের একাংশের কিছু গোপন করার চেষ্টা নিয়ে জল্পনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সুস্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত রয়েছে বলেও মনে করে বিআইপি।

বিবৃতিতে বিআইপি এ সিদ্ধান্তের দ্ব্যর্থহীন প্রতিবাদ জানিয়ে একে টেকসই, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিবহনের ইতিহাসে ‘কালো দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সংস্থাটির দাবি, এ সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারী ও দেশ-বিদেশের নির্মাণ খাতের লবির স্বার্থের পক্ষে গেছে। একই সঙ্গে এটি গাজীপুর ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান (জিটিএমপি) এবং ঢাকার সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (আরএসটিপি) প্রস্তাবনার পরিপন্থী। গত ১৪ বছর ধরে নির্মাণকাজের কারণে দুর্ভোগ পোহানো গাজীপুর ও উত্তরার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা এবং যাতায়াতের চাহিদার প্রতিও সিদ্ধান্তটি সুবিচার করেনি বলে মনে করে সংস্থাটি।

এ অবস্থায় বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, বিআরটি ও এমআরটি পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য সমন্বিত সংস্থা গঠন এবং ঢাকা শহরসহ দেশের অন্যান্য মহানগরের জন্য বিআরটির বৃহত্তর পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বিআইপি। পাশাপাশি পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্পভিত্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে পরিকল্পনাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ এবং বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয়সাশ্রয়ী প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। নারী, স্বল্প দূরত্বের যাত্রী, শারীরিক প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও সীমিত সামর্থ্যরে মানুষসহ অধিকসংখ্যক যাত্রীকে সেবা দিতে সক্ষম পরিবহন প্রকল্প গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলের পরিবহন পরিকল্পনায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষকে (ডিটিসিএ) নেতৃত্বদানকারী সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে ন্যস্ত করার আহ্বান জানিয়েছে বিআইপি।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া গাজীপুরবাসীর : সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শিশির বলেন, দীর্ঘ এক যুগ ধরে গাজীপুরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে রেখে এবং হাজার কোটি টাকার জনগণের রাজস্ব অপচয় করে শেষ মুহূর্তে এসে বিআরটি প্রকল্প বন্ধ ও ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত হতাশাজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। অপরিকল্পিত পরিকল্পনা, লাগামহীন দুর্নীতি এবং জবাবদিহিতাহীন মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের এই চরম মাশুল শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণকেই দিতে হচ্ছে। কেবল প্রকল্প ভেঙে ফেললেই দায় শেষ হয়ে যায় না, বরং এই ব্যর্থতার পেছনের অদক্ষতা ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, সরকার এটা অদূরদর্শিতার পরিচয় দেবে, কারণ অনেক টাকা ইনভেস্ট করা হয়েছে তাই এটিকে আরও কীভাবে উন্নত করা যায় সে চিন্তা করতে হবে। একটি প্রকল্পকে বাস্তবায়ন না করে আবার আরেকটা করা এটা কল্যাণ কর হবে না। বিআরটিকে উন্নত ব্যবস্থাপনায় এবং রাস্তাঘাটকে সুন্দর করে চালু করার মধ্যমে ভালো হবে। এটিকে সংস্কার করে উন্নত ব্যবস্থাপনায় কাজ করলে কল্যাণকর হবে। বিরাট বড় অর্থনীতির হাত থেকে বাঁচবে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি সওকত হোসেন সরকার বলেন, বর্তমান সরকার বাস্তবসম্মত একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিআরটি প্রকল্প ফ্যাসিস্ট সরকারের লুটপাটের একটি খাত ছিল, যা সাধারণ মানুষের গলার কাটা হয়ে রয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাজীপুর অংশে চলাচলকারী মানুষ প্রায় ১৪ বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ভোগান্তি আর থাকবে স্বস্তি ফিরে আসবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
  বিষয়:   ঢাকা  গাজীপুর  দ্রুত ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত  স্বপ্ন  বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট  বিআরটি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: