প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৩ এএম
সংগৃহীত ছবিহাসপাতালের শয্যায় ব্যথায় কাতরাচ্ছেন রুবিনা আক্তার। এর মধ্যেও তিনি বারবার জানতে চাইছেন, স্বামী ও সন্তানেরা কোথায়। তিনি এখনও জানেন না, স্বামী শহিদুল ইসলাম ও মেয়ে তাছফিয়া আর বেঁচে নেই। স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বড় বোনের বাসায় পূজার ছুটি কাটাতে যাচ্ছিলেন রুবিনা আক্তার (৩৬)। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন তার স্বামী ও মেয়ে। রুবিনা ও তার ছেলে লাবিব হোসেন (১০) গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। রুবিনাকে এখনও তার স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি।
রুবিনা আক্তার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। স্বামী শহিদুল ইসলাম ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখার কর্মকর্তা (ক্রেডিট ম্যানেজার) ছিলেন। দুর্ঘটনায় শহিদুল (৪০) ও তাদের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮) মারা গেছেন। তাছফিয়া তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ছেলে লাবিব পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।
রুবিনার ভগ্নিপতি শহিদুর রহমান রাজশাহীর পাঠানপাড়া এলাকায় থাকেন। তিনি ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা। তিনি জানান, পূজার ছুটি কাটাতে সন্তানদের নিয়ে পটুয়াখালী থেকে রওনা হন রুবিনা। পথে একই বাসে ওঠেন তার স্বামী। তাদের রাজশাহীতে পৌঁছানোর কথা ছিল। দেরি হওয়ায় খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন। সকাল ১০টার দিকে শহিদুর রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমার শ্যালিকা (রুবিনা) ও ভায়রা (শহিদুল ইসলাম) ওমরাহ করে এসেছেন। তারা দুজনেই ব্যাংকে চাকরি করেন। পূজার ছুটিটা আমাদের বাসায় কাটাতে চেয়েছিলেন। সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।’ শহিদুর এখন নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি লাবিবের পাশে আছেন। রুবিনার পাশে আছেন তার স্ত্রী। বনপাড়া পাটোয়ারী ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রুবিনা এখনও স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর খবর জানেন না।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা