মৃত্যুদণ্ডের আগের দিনও পরিবারের সঙ্গে কথা হয় সুইটির

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা

সারাদেশ

ফোনে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, দুই মাসের মধ্যেই জেল থেকে মুক্তি পাবেন। কারাজীবনের অবসান হলো ঠিকই, তবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাড়ি ফেরা হলো

2026-10-21T04:55:47+00:00
2026-10-21T04:55:47+00:00
 
  বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
মৃত্যুদণ্ডের আগের দিনও পরিবারের সঙ্গে কথা হয় সুইটির
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৫ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ফোনে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, দুই মাসের মধ্যেই জেল থেকে মুক্তি পাবেন। কারাজীবনের অবসান হলো ঠিকই, তবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাড়ি ফেরা হলো না। ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

একই দিনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক নজরুল ইসলামের। ওই পরিবারের মতো মেয়ের মৃত্যুর কথা গণমাধ্যমের খবর থেকেই জানতে পারেন সুইটির বাবা ফজল মিয়া। এখন মেয়ের মরদেহের অপেক্ষায় আছেন তিনি।

মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের বাসিন্দা ফজল মিয়া পেশায় দিনমজুর। পাঁচ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুইটি। চার বছর আগে দেড় লাখ টাকা ধার করে দালালের মাধ্যমে মেয়েকে সৌদি পাঠিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার তার বাড়িতে গিয়ে প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। সম্প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ সুইটিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে তা কার্যকর করেছে বলে জানতে পেরেছেন তারা।

সুইটি আক্তারের পরিবার জানায়, প্রায় চার বছর আগে সৌদি আরব যাওয়ার পর প্রথম পাঁচ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছেন তিনি। পরে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে বলে ফোন করে বাড়িতে জানান। কারাগার থেকেই ১৫ দিন আগে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে তখন মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

ফজল মিয়া বলেন, ‘সুইটি জানিয়েছিল, সেখানে কর্মরত অন্য নারী কর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসেই বাড়িতে ফোন করে কথা বলত সে। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি। শেষদিকে ফোনে জানিয়েছিল, দুই মাস পর জেল থেকে মুক্তি পেতে পারে।’

দুদিন আগে তারা সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানতে পারেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের আগে কিছু জানানো হয়নি। ফজল মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ের ভাগ্যে কী ঘটেছে, আমরা জানি না। সে বেঁচে আছে না মারা গেছে, তাও আমরা জানি না। আমরা শুধু মানুষের কাছে উড়ো খবর শুনেছি।’

সুইটির মা জহুরা বলেন, ‘সরকারের কাছে জানতে চাই, আমার মেয়ের কী হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। জীবিত হোক, মৃত হোক, আমি আমার মেয়েকে চাই।’ মির্জাপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সুইটি আক্তারের মৃত্যুর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে কিছু জানানো হয়নি। একই তথ্য জানান স্থানীয় মহেরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
  বিষয়:   মৃত্যুদণ্ড  আগের দিন  পরিবার  সময়ের আলো  সৌদি আরব  সুইটি 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: