নারীরা একে অপরের কপালে ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান। ছবি : সময়ের আলোঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি আর শঙ্খের আওয়াজে মুখর পূজামণ্ডপ। দেবী দুর্গার প্রতিমার সামনে চলছে সিঁদুর খেলা। উচ্ছ্বাসের রঙে মাখামাখি আনন্দের মাঝেই ভক্তদের মনে বিচ্ছেদের বিষণ্নতা। শুরু হয়েছে দেবীর বিদায়ের ক্ষণ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) পাঁচ দিনের উৎসব শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। রংপুর নগরীর ১৬৪টি, জেলার ৮০০টি ও বিভাগের ৫ হাজার ২৩৮টি মণ্ডপে বিজয়ার সকালে ঢাক, কাঁসর ও শঙ্খের ধ্বনির মধ্যে শুরু হয় বিদায়কালীন পূজা, দর্পণ বিসর্জন ও অপরাজিতা পূজা। দশ উপাচারে পূজা শেষে ভক্তরা দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন। এরপর আয়নায় দেবীর প্রতিবিম্ব দর্শনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা। এর মাধ্যমে মণ্ডপে পূজার সমাপ্তি ঘটে।
নগরীর পায়রা চত্বর এলাকার কালীবাড়ি মন্দিরে দেখা যায়, প্রতিমা বিসর্জনের আগে বিবাহিত নারীরা দেবীকে বরণ করছেন। সিঁদুর, পান-সুপারি, ধান-দূর্বা ও মিষ্টি নিয়ে তারা পানের পাতা দিয়ে দেবীর মুখ স্পর্শ করান, মিষ্টিমুখ করান এবং দেবীর সিঁথিতে সিঁদুর পরান। এরপর একে অপরের কপালে ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান। ঢাকের তালে তালে চলে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
নগরীর ধর্মসভা, রাধা গোবিন্দ মন্দির, আনন্দময়ী সেবাশ্রম, গুপ্তপাড়া মন্দির, ধাপ হরিসভা মন্দির ও পরেশনাথ মন্দিরসহ অন্য মন্দিরগুলোতেও উৎসবের একই উদ্যাপন।
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, নারীরা স্বামীর দীর্ঘায়ু ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় এই আচার পালন করেন। তাদের কাছে এটি সৌভাগ্য ও দীর্ঘায়ুর প্রতীক। তবে বিবাহিত নারীদের পাশাপাশি অবিবাহিত তরুণী ও সাধারণ ভক্তরাও সিঁদুরের রঙে রাঙিয়ে উৎসবে শামিল হন।
কালীবাড়ি মন্দিরে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন সুহাসিনী চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এত আনন্দের মধ্যেও মন খারাপ লাগছে, কারণ মা আজ চলে যাবেন। তার কাছে একটাই প্রার্থনা, তিনি যেন সবাইকে শান্তি, সুস্থতা ও মঙ্গল দেন।
মৌমিতা রায় নামে আরেকজন বলেন, সিঁদুর খেলার মাধ্যমে আমরা একে অন্যের মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করি। প্রতিবছর মা যখন আসেন, আমাদের মন আনন্দে ভরে ওঠে। আবার বিদায়ের সময় মন ভার হয়ে যায়। তবে আগামী বছর মা আবার ফিরবেন, এই বিশ্বাসেই এবারের আয়োজন শেষ হচ্ছে।
শাস্ত্রীয় পঞ্জিকা ও সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গা মর্ত্যে এসেছেন ঘোড়ায় চড়ে এবং কৈলাসে ফিরবেন নৌকায়।
প্রতিবছরের মতো এবারও বিজয়া দশমীর বিকেল চারটায় নগরীর সুরভী উদ্যানের সামনে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভা শেষে বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে ট্রাকসহ অন্যান্য বাহনে প্রতিমা নগরীর নির্দিষ্ট জলাশয়ে নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এনএন