প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম
পরিবার, সন্তান ও স্বজনদের কল্যাণ-মঙ্গল কামনায় বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গার চরণে শেষবারের মতো সিঁদুর অর্পণ করে দিনাজপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সিঁদুর উৎসবে মেতে ওঠেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা। । ছবি : সময়ের আলোপরিবার, সন্তান ও স্বজনদের কল্যাণ-মঙ্গল কামনায় বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গার চরণে শেষবারের মতো সিঁদুর অর্পণ করে দিনাজপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সিঁদুর উৎসবে মেতে ওঠেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা। একে অপরকে মিষ্টিমুখ করানো, কপাল ও সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়া এবং নেচে-গেয়ে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে উৎসবটি উদযাপন করেন তারা।
বিজয়া দশমী মানেই একদিকে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর বেদনা, অন্যদিকে আগামী বছরের অপেক্ষা। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বাবার বাড়ি থেকে দেবী দুর্গা তাঁর চার সন্তান লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে নিয়ে কৈলাসে ফিরে যান। দেবীকে বিদায় জানানোর এই ক্ষণে বিসর্জনের বিষাদকে ছাপিয়ে সিঁদুর খেলায় আনন্দে মেতে ওঠেন বিবাহিত নারীরা। পরস্পরের কপাল ও সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি ভাগাভাগি করে নেন উৎসবের আনন্দ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকেই দিনাজপুরের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সিঁদুর খেলার আয়োজন। লাল পাড়ের শাড়িসহ বাহারি পোশাকে সেজে পূজামণ্ডপে উপস্থিত হন নারীরা। দেবীর চরণে সিঁদুর অর্পণের পর একে অপরকে সিঁদুরে রাঙিয়ে দেন তারা। মিষ্টিমুখ করানো, হাসি-আড্ডা, নাচ ও গানে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপগুলো। এ উৎসবের আনন্দে শামিল হন তরুণীরাও।
সিঁদুর খেলা শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং সনাতন সম্প্রদায়ের নারীদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় করারও একটি উপলক্ষ। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর আগে শেষবারের মতো প্রার্থনায় অংশ নিয়ে পরিবার-পরিজনের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন তারা।
জেলায় এবার মোট ১ হাজার ৩১৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিজয়া দশমীর এই সিঁদুর উৎসব দিনাজপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সৃষ্টি করে আনন্দঘন পরিবেশ। দেবী দুর্গার বিদায়ের সুরে বিষাদ থাকলেও সিঁদুরের লাল রঙে, শুভেচ্ছা বিনিময়ে আর মিলনমেলায় উৎসবের শেষ মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা।
সময়ের আলো/আতা