নবজাতক শিশু ও পরিবারের সদস্যদের আহাজারি। ছবি: সময়ের আলোচুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর জান্নাতুল খাতুন (১৯) নামে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অস্ত্রোপচারের পর প্রথমদিকে মা ও নবজাতক সুস্থ ছিলেন বলে দাবি স্বজনদের। তবে গভীর রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসাসেবা ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিহত জান্নাতুল আলমডাঙ্গা উপজেলার কেদারনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলীর মেয়ে এবং একই গ্রামের জীবন আলীর স্ত্রী। নবজাতক বেঁচে থাকলেও মাকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর সকাল থেকে জান্নাতুলের প্রসবের লক্ষণ দেখা দেয় এবং তাঁর পানি ভাঙতে শুরু করে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আলমডাঙ্গা শহরের ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসক নজরুল ইসলাম তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন।
স্বজনদের ভাষ্য, অস্ত্রোপচারের পর জান্নাতুল ও নবজাতক দুজনই সুস্থ ছিলেন। তবে প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর গভীর রাতে হঠাৎ তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা ক্লিনিকের নার্সদের ডাকলে তাঁরা অক্সিজেন দেন এবং চিকিৎসককে ডেকে আনেন। এরপর জান্নাতুল কিছুটা সুস্থ বোধ করেন বলে দাবি করেন স্বজনেরা।
তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি এড়াতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোরে তাঁকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
জান্নাতুলের মা ও শাশুড়ি জানান, অস্ত্রোপচারের পর তিনি স্বাভাবিক ছিলেন। রাতে নিজেই এপাশ-ওপাশ ফিরে ঘুমাচ্ছিলেন। কিন্তু গভীর রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁরা ক্লিনিকের কর্মীদের ডাকেন। অক্সিজেন দেওয়ার পরও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরে ভোরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর জান্নাতুলের মরদেহ স্বামীর বাড়িতে নেওয়া হয়। তাঁর অকালমৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ওই দিন বিকেলে গ্রামের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
এদিকে, অস্ত্রোপচারের পর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া এবং পরে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসাসেবা ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রসূতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা ও যথাযথ তদন্তের প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। ফলে এ ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
প্রসূতির মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটন এবং চিকিৎসাসেবায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সময়ের আলো/এনএন