পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন পর্যটকেরা। ছবি : সময়ের আলোমৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে তিন দিনের ছুটিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সরকারি ছুটির পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন পর্যটকেরা।
পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারে প্রতি বছর বিভিন্ন ছুটিতে দেশি-বিদেশি ও স্থানীয় পর্যটকসহ হাজারো পর্যটক আসেন। এবারেও পূজার ছুটিতে পর্যটক এসেছেন। জেলার সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় মিলে প্রায় শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এসব দর্শনীয় স্থান দেখতে পরিবার- পরিজন নিয়ে ভিড় করছেন। এর পাশাপাশি প্রায় দুই শতাধিক রিসোর্ট রয়েছে। এসব দৃষ্টিনন্দন বেশিরভাগ রিসোর্ট কমলগঞ্জ শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত। এগুলো দেখতেও পর্যটকের মধ্যে উৎসাহের কমতি নেই।
সরজমিনে মঙ্গলবার ও বুধবার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার পর্যটক এসেছেন এই উদ্যান ঘুরতে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কেউ প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে আবার কেউ দলবেঁধে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে কমলগঞ্জ শহরে যানজট লেগে থাকায় পর্যটকদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, কমলগঞ্জে মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল, চা- কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি, ডিনস্টন সিমেট্রি, হামহাম জলপ্রপাত, মনিপুরী পল্লী, হাকালুকি হাওর।
মনু ব্যারেজ, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বধ্যভূমি, উঁচু নিচু সবুজ চা বাগান, চা কন্যা ভাস্কর্য, নীলকন্ঠ টি কেবিন, ব্যক্তি মালিকানা সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা। এসব কেন্দ্রে পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল আজহার পর দীর্ঘ ৪ মাস পর আবার পর্যটকের আগম ঘটেছে পূজার এই ছুটিতে। জেলায় অন্তত ১০ হাজার পরিবার পর্যটন ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। পর্যটন ব্যবসা ভালো না হলে এসব পরিবারের মানুষ কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করতে হয়। কমবেশি পর্যটক এবার এসেছেন। পর্যটকেরা তাদের চাহিদা মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আশা আবিদ চৌধুরী বলেন, এক বছর পর আবার কমলগঞ্জে এসেছি। এখানের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যি অসাধারণ। তবে এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র থেকে অন্য পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক।
টুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটক কেন্দ্রে পর্যটক এসেছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আমরা সবসময় কাজ করছি।
প্রসঙ্গত, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
সময়ের আলো/এনএন