ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল

রফিক রাফি

রাজনীতি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের একজন— এমন আলোচনা রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে এ অবস্থানে পৌঁছাতে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে

2026-10-22T01:32:52+00:00
2026-10-22T01:32:52+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
রাজনীতি
তারেকের তলোয়ার
ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল
রফিক রাফি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩২ এএম 
সালাহউদ্দিন আহমদের জীবন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক আলোচিত অধ্যায়। ছবি : সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের একজন— এমন আলোচনা রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে এ অবস্থানে পৌঁছাতে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ সাড়ে ৯ বছর ভারতের শিলংয়ে কাটাতে হয় তাকে। এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা কারাবন্দি থাকায় দলের মুখপাত্র হিসেবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন, গুমের অভিজ্ঞতা, নির্বাসিত জীবন এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হওয়া— সব মিলিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের জীবন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক আলোচিত অধ্যায়।

১৯৬২ সালের ৩০ জুন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সিকদারপাড়া গ্রামে জন্ম সালাহউদ্দিন আহমদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ছাত্রজীবনেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। আশি দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে তার পরিচিতি বাড়ে।

নির্বাসিত জীবন থেকে দেশ ফেরার পর থেকেই সালাহউদ্দিন আহমদকে কেন্দ্র করে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আলোচনা-সমালোচনা এবং বিভিন্ন বিতর্ক তৈরি একটি নিয়মিত দৃশ্যপট হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বিরোধীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। তাকে ঘিরে রাজপথ ও সংসদে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা-আক্রমণ দিন দিন তীব্র হচ্ছে। ইদানীং তাকে নিয়ে আওয়ামী আমলের কিছু মনগড়া ও মিথ্যা ঘটনাকেও সামনে আনা হচ্ছে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান এবং পরবর্তী সময়ে তার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে আবারও সরব হয়েছে সালাহউদ্দিনের প্রতিপক্ষরা। 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ঘের দখল, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যর্থতার বলি হতে হচ্ছে ইশরাক হোসেনদের মতো তরুণদের।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে সংকট সামাল দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সমাধান হয় না। রাষ্ট্রকে কার্যকর করতে হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সমস্যার মূল জায়গাটি আড়াল করা ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিএনপি নেতারা বলছেন, সালাহউদ্দিন আহমদ এক দিনে তৈরি হননি। তার মেধা, প্রজ্ঞা ও বিএনপির রাজনীতির প্রতি কমিটমেন্ট তাকে আজকের জায়গায় নিয়ে এসেছে। রাজনীতির মাঠে এবং সংসদে তার মতো জানাশানো লোক খুবই কম আছে। তাকে যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করতে না পেরে সমালোচনা ও গুজব ছড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে বিরোধীরা। 

বিএনপি নেতারা বলছেন, মূলত বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে মতবিরোধ শুরু হয়। কেননা কমিশনের প্রায় ৯ মাসের সংলাপে সালাহউদ্দিন আহমদ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির অবস্থান ও তার পক্ষে অকাট্য যুক্তি তুলে ধরেন। এরপর সংসদে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল— সব মিলিয়ে বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নিশানায় সালাহউদ্দিন আহমদ।

এখন আওয়ামী লীগ, জামায়াত এবং এনসিপি— সবার টার্গেটে পরিণত হয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। কারণ তারা সবাই জানেন, চৌকশ এই রাজনীতিককে কোণঠাসা করা গেলে বিএনপিকে দুর্বল করা সম্ভব হবে। 

প্রশাসন থেকে রাজনীতিতে

রাজনীতিতে আসার আগে সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারি প্রশাসন ক্যাডারে কাজ করেন। সপ্তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। পরে আইন পেশায় যুক্ত হন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেন। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হন। সরকারি প্রশাসন ও মন্ত্রিসভায় কাজের অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

আন্দোলনের মুখপাত্র, তারপর নিখোঁজ

২০০৮ সালের পর বিএনপি বিরোধী দলে থাকাকালে সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১০ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হন। পরবর্তী সময়ে দলের মুখপাত্র হিসেবে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও রাজনৈতিক বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার একটি বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করে বিএনপি ও তার পরিবার। এরপর দীর্ঘদিন তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় দুই মাস পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তার সন্ধান মেলে। পরে ভারতে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়। ওই সময়ের ঘটনা তার রাজনৈতিক জীবনে বড় মোড় তৈরি করে।

নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন

গুম হওয়ার পর সালাহউদ্দিন আহমদ দীর্ঘ সময় শিলংয়ে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে ফেরার পথ তৈরি হয়। একই বছরের আগস্টে দেশে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে আবারও সক্রিয় হন তিনি। পরবর্তী সময়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার ভূমিকা বাড়ে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক সংলাপ ও রাষ্ট্র সংস্কারবিষয়ক আলোচনায় অংশ নেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সালাহউদ্দিন আহমদের ভূমিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিএনপির পক্ষে রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচনকালীন রূপরেখা ও সাংবিধানিক প্রশ্নে দলীয় অবস্থান তুলে ধরা। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বিএনপির প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে অংশ নেন। ২০২৫ সালের ২ জুন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংস্কারবিষয়ক বৈঠক শেষে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিএনপি সংস্কার প্রক্রিয়ায় মতামত দিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত সংস্কার আলোচনা শেষ করে নির্বাচনের পথে এগোনোর পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বিরোধী দলের মুখপাত্র থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আসা তার রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়।

একসময় যিনি নিজেই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ও দীর্ঘ প্রবাসজীবনের মধ্য দিয়ে গেছেন, এখন তাকেই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার সামনে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন, পুলিশের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা, মানবাধিকার রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

নয় মাসে সাত অপরাধে মামলা কমেছে ৭.১ শতাংশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, দাঙ্গা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অপহরণসহ সাত ধরনের অপরাধে মামলা কমেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে এসব অপরাধে মামলা কমেছে ১ হাজার ৩২৬টি বা ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

গত বছরের প্রথম ৯ মাসে সাত ক্যাটাগরিতে মামলা হয়েছিল ১৮ হাজার ৬৬১টি। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩৩৫টিতে। আর জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মামলা কমেছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কয়েকটি প্রধান অপরাধ কমেছে। এতে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে এ অগ্রগতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দাঙ্গার মামলা ৬২টি থেকে কমে ১৭টিতে নেমেছে, যা প্রায় ৭২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। ডাকাতির মামলা ৫৩৮টি থেকে কমে ৩৮৭টি এবং খুনের মামলা ২ হাজার ৯১৩টি থেকে কমে ২ হাজার ৬৫৯টি হয়েছে।

এ ছাড়া অপহরণের মামলা ৮১২টি থেকে কমে ৭৬৯টি, শিশু নির্যাতনের মামলা ৩ হাজার ৫৯১টি থেকে কমে ৩ হাজার ১৫১টি এবং নারী নির্যাতনের মামলা ৯ হাজার ২৬২টি থেকে কমে ৮ হাজার ১৭৮টিতে দাঁড়িয়েছে। দস্যুতার মামলাও ১ হাজার ৪৮৩টি থেকে কমে ১ হাজার ৩৭৪টিতে নেমেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান সমেয়র আলোকে বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমদ মেধাবী ছাত্র ছিলেন। রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় নিয়মিত ক্লাস করতে পারতেন না। তবে পরীক্ষার আগে পড়াশোনার বিষয়ে আমার পরামর্শ নিতেন। মাস্টার্সে ১২০ জনের মধ্যে তিনি ১৫তম হয়েছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন মিষ্টভাষী ও সদালাপি।’

তিনি বলেন, পড়াশোনা শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। পরে খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করে সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে আসেন।

শিলংয়ে তার অবস্থান প্রসঙ্গে অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান বলেন, সেখানে তাকে আইনি লড়াই করতে হয়েছে এবং দেশে ফেরার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। তাকে ভারতপন্থি বা ‘র’-এর এজেন্ট বলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, তিনি বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন। তাকে দেশপ্রেমিক ও বাংলাদেশপন্থি রাজনীতিবিদ হিসেবেই জানি।’

বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান সময়ের আলোকে বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ এ দেশের রাজনীতিতে সততা, নিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ ত্যাগের এক উজ্জ্বল প্রতীক। বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি যেভাবে দেশ ও জনগণের পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন, তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি যখন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে নানা অহেতুক বিষয়ে জড়িয়ে চরিত্রহননের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির একজন মেধাবী রাজনীতিবিদ। তিনি সংবিধান, সংসদ, সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞানী। সংবিধানের অনেক শক্তিশালী যুক্তি দেখাতে পারেন। তার মেধা দিয়ে তিনি বিএনপি ও দেশ জাতির হয়ে ভূমিকা রাখছেন। এ রকম যারা আছেন, তাদের প্রত্যেককে মর্যাদা দেওয়া উচিত।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   ম্যাজিস্ট্রেসি  রাজনীতি  সালাহউদ্দিন  একাল-সেকাল 


Advertisement
Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: