শিক্ষক প্রশিক্ষণ : প্রকল্প নয়, চাই কার্যকর ব্যবস্থা

মাছুম বিল্লাহ

একটি বাংলা দৈনিকে দেখলাম, ‘মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগে বড় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’ এখানে পরিবর্তনই বা কী, আর উদ্যোগই

2026-10-24T03:48:11+00:00
2026-10-24T03:48:11+00:00
 
  শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬,
৮ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষক প্রশিক্ষণ : প্রকল্প নয়, চাই কার্যকর ব্যবস্থা
মাছুম বিল্লাহ
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৮ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
একটি বাংলা দৈনিকে দেখলাম, ‘মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগে বড় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’ এখানে পরিবর্তনই বা কী, আর উদ্যোগই বা নতুন কী? বিষয়টি নিয়ে তো বহু বছর ধরে পত্রিকায় লিখে আসছি। শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষ থেকে তুলে এনে, পাঠদান বন্ধ রেখে প্রশিক্ষণ না দেওয়ার কথা কতবার বলেছি! আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন নতুন শিক্ষাক্রম চালুর নামে শিক্ষকদের দিনের পর দিন প্রশিক্ষণে ডাকা হচ্ছিল, তখনও এ বিষয়ে নিয়মিত লিখেছি। কিন্তু কথা হচ্ছে, আমাদের কথা কে শোনে?

একজন ব্যক্তি যত ভালো ও সুঠাম দেহের অধিকারীই হোন না কেন, তাকে যদি একটি নতুন পাজেরো বা লিমুজিন গাড়ি দেওয়া হয়, তিনি গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ ছাড়া সেটি চালাতে পারবেন না। শখের বশে প্রশিক্ষণ না নিয়ে গাড়ি চালাতে গেলে তিনি গাড়িটির ক্ষতি করতে পারেন, অন্যের জীবন বিপন্ন করতে পারেন এবং নিজের জীবনও ঝুঁকিতে ফেলতে পারেন। একইভাবে বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরত সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ নিতে হয়। অর্থাৎ গাড়ি চালানোর আগে একজন চালককে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এরপর তিনি যতবেশি গাড়ি চালাবেন, ততবেশি দক্ষ হয়ে উঠবেন। তাকে নিয়মিত গাড়ি চালানো বন্ধ রেখে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং প্রয়োজনের অতিরিক্ত এভাবে নেওয়া হলে তার নিয়মিত কাজ ব্যাহত হবে। বাস্তবে ঘটছেও তা-ই।

সেনাবাহিনীর উদাহরণও এখানে প্রাসঙ্গিক। সেনাবাহিনী যখন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকে, তখন সেখান থেকে সদস্যদের সরিয়ে এনে আলাদা প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ থাকে না। যুদ্ধের ময়দানে কাজ করতে গিয়ে তারা নতুন নতুন কৌশল শেখেন, যা বাস্তব অভিজ্ঞতার অংশ। তবে দীর্ঘদিন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলে যুদ্ধবিদ্যার চর্চা ধরে রাখতে নিয়মিত মহড়া ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। শীতকালীন প্রশিক্ষণ এর একটি উদাহরণ।

শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। কিন্তু বিষয়টিকে অন্যান্য বাহিনীর প্রশিক্ষণের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষেত্র যেমন রণাঙ্গন, শিক্ষকদের যুদ্ধক্ষেত্র তেমনি শ্রেণিকক্ষ। শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষককে তুলে এনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অর্থ হলো, শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত করা। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রায়ই বিঘ্নিত হয়। এর মধ্যে ওপর থেকে শিক্ষক পাঠানোর নির্দেশ এলে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বিপাকে পড়ে। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণে ডাকা হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা প্রশিক্ষণে যেতে চান না। তখন আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে অর্থের আকর্ষণে তারা প্রশিক্ষণে অংশ নেন। অথচ তারা নিজেদের একাডেমিক ডিগ্রি অর্জনের জন্য অর্থ ব্যয় করেছেন। শিক্ষকতার পেশাগত প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। তা হলে এ প্রশিক্ষণ নিতে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ তৈরি হচ্ছে না কেন? প্রশিক্ষণ আয়োজনে যুক্ত ব্যক্তিরা এবং বড় বড় প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এতে লাভবান হন কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে। দেশে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে এ পর্যন্ত যত অর্থ ব্যয় হয়েছে তার ফলাফল যথাযথভাবে মূল্যায়ন  করা হলে বোঝা যেত, কত অর্থ কাজে লেগেছে আর কত অপচয় হয়েছে।

মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একটি প্রকল্পের প্রাথমিক খসড়ায় নিয়োগের আগেই প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর এ খসড়া তৈরি করেছে। ‘প্রফেশনালাইজেশন ফর এনহ্যান্সড লার্নিং প্রজেক্ট’ নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ২৪৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ অর্থের বড় অংশ ব্যয় হবে কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মেরামত এবং পেশাগত সেবা খাতে। প্রকল্পের পুরো অর্থ বৈদেশিক অনুদান থেকে পাওয়ার কথা। সম্ভাব্য বাস্তবায়নকাল চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। অর্থাৎ আবারও একটি প্রকল্প!

প্রশ্ন হচ্ছে, এ কাজ প্রকল্পের মাধ্যমে করতে হবে কেন? দেশের সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজগুলোতে প্রশিক্ষণার্থীর সংকট রয়েছে। শিক্ষকরা প্রশিক্ষণে যেতে চান না। 

আবার শিক্ষক স্বল্পতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের পাঠানোও কঠিন। বিভিন্ন কারণে একাধিক শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এ অবস্থায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে পাঠাতে প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবেই অনাগ্রহী থাকে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য এমন আকর্ষণীয় ব্যবস্থাও নেই, যার কারণে শিক্ষকরা সবকিছু ফেলে সেখানে ছুটে যাবেন। বিএড প্রশিক্ষণ নিলে একসময় বেতন স্কেলে পরিবর্তনের সুযোগ ছিল, যা এখন আগের মতো আকর্ষণীয় নয়। এ কারণে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজগুলোতে এখন শিক্ষা বিষয়ক স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সেখানে শিক্ষা বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। এটি ইতিবাচক উদ্যোগ।

শিক্ষকতার আগে বিএড বা এ ধরনের পেশাগত কোর্স বাধ্যতামূলক করা হলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী অনেকেই নিজ উদ্যোগে এবং নিজ খরচে এসব কোর্স সম্পন্ন করবেন। 

এতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে। ভালো বেসরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজগুলোও শিক্ষার্থী পাবে। সরকারের অর্থ ব্যয় করে প্রকল্প নেওয়ার প্রয়োজন কমবে। সবাই নিজ খরচে একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন করেন, অথচ পেশাগত প্রশিক্ষণের কথা এলেই সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর করতে হয় কেন? প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করা প্রার্থীদেরই শিক্ষকতার চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। নিজ উদ্যোগে ও নিজ খরচে অর্জিত প্রশিক্ষণ একজন প্রার্থীর মধ্যে পেশাগত দায়িত্ববোধও তৈরি করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজগুলোর শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি নিতে হবে। শিক্ষকদের সন্তুষ্ট করে বেশি নম্বর দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। প্রশিক্ষণের সনদ যেন কেবল আনুষ্ঠানিক যোগ্যতার প্রমাণ না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দেশে মাধ্যমিক স্তরে মোট শিক্ষক রয়েছেন ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৮৪ জন। তাদের মধ্যে নারী ৭৩ হাজার ৪৯ জন। মাধ্যমিক স্তরে সাধারণত দুভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয় সরকারি কর্ম কমিশন। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ হয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। নিয়োগের পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এসব শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ হয় এককালীন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার আগে প্রশিক্ষণ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। 

আফ্রিকার অনুন্নত দেশগুলোতেও এমন ব্যবস্থা দেখেছি। ইউরোপের ফিনল্যান্ডে শিক্ষকতা পেশায় আসতে হলে শিক্ষাবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়ন সম্পন্ন করতে হয়। সিঙ্গাপুরেও প্রাক-চাকরির শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের জন্য লাইসেন্স নিতে হয়।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের নথিতে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রকৃত অর্থে প্রাক-চাকরির শিক্ষক প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই। অথচ শিক্ষকতার মতো পেশায় প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও মানসিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের সুযোগ দিতে প্রাক-চাকরির শিক্ষক-শিক্ষা মডেল চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ মডেলের আওতায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে প্রাক-চাকরির শিক্ষক প্রশিক্ষণ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি এ প্রশিক্ষণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো ও সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। চাকরিতে থাকা শিক্ষকদের অব্যাহত পেশাগত উন্নয়নের ব্যবস্থাও জোরদার করার প্রস্তাব রয়েছে। বিদ্যমান ১০টি প্রশিক্ষণ কোর্স হালনাগাদের পাশাপাশি নতুন করে আরও ১০টি কোর্স চালুর কথা বলা হয়েছে।

একজন প্রার্থীর শিক্ষক হিসেবে কাজ করার মানসিক সক্ষমতা, আগ্রহ ও যোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সব কার্যক্রমই একটি সুস্পষ্ট শিক্ষানীতির আওতায় পরিচালনা করতে হবে। প্রকল্পের প্রস্তাবে শিক্ষা প্রশাসক, শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের চাকরিকালে পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 

এ ক্ষেত্রে ২০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসক এবং দেড় হাজার প্রধান শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণের সংখ্যা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য হতে পারে না। প্রশিক্ষণের ফলে শিক্ষকদের পাঠদানের দক্ষতা কতটা বাড়ল, শিক্ষার্থীদের শেখার মানে কী পরিবর্তন এলো, তা যাচাই করতে হবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে— শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প এবং প্রচলিত ব্যবস্থায়, যেমন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ ও জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির মাধ্যমে এত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে, কিন্তু এর ফলাফল কোথায়? কিছু আগ্রহী ও উদ্যোগী শিক্ষক হয়তো প্রশিক্ষণ থেকে উপকৃত হয়েছেন। তবে তার ব্যাপক প্রতিফলন শিক্ষার্থীদের শিখনফলে দেখা যাচ্ছে না। এখনও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের অনেক শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজি বই ভালোভাবে পড়তে পারে না। 

প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন তো আরও দূরের কথা। সাধারণ যোগ-বিয়োগের অঙ্ক একটু ঘুরিয়ে উপস্থাপন করলেও অনেক শিক্ষার্থী তা সমাধান করতে পারে না। শিক্ষকরাও অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাস্তব সমস্যা বুঝিয়ে শেখাতে পারেন না। তারা সেই চিরাচরিত পদ্ধতিতে সূত্র মুখস্থ করিয়ে যাচ্ছেন। এটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। তা হলে এত প্রশিক্ষণের পরও শিক্ষার্থীদের শেখার মানে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসছে না কেন?

শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ব্যাহত করে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে ডাকার বিষয়টি নিয়ে বহুবার লিখেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি, শিক্ষক প্রশিক্ষণের মডেল পরিবর্তন করতে হবে। শুধু প্রকল্প গ্রহণ, কর্মশালা আয়োজন এবং প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। প্রশিক্ষণ হতে হবে প্রয়োজনভিত্তিক, ধারাবাহিক ও বাস্তবমুখী। শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের অভিজ্ঞতাকে প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। 

প্রশিক্ষণের ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি দিয়ে। আর নতুন শিক্ষক নিয়োগের আগে পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে সেটিকে প্রকল্পনির্ভর না রেখে স্থায়ী শিক্ষাব্যবস্থার অংশ করা উচিত। মূল লক্ষ্য হতে হবে দক্ষ শিক্ষক তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের শেখার মান উন্নত করা। প্রকল্প নয়, প্রয়োজন একটি কার্যকর ও টেকসই প্রশিক্ষণব্যবস্থা।


লেখক : শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক

(মতামত লেখকের নিজস্ব)


সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও
  বিষয়:   শিক্ষক প্রশিক্ষণ  প্রকল্প  কার্যকর ব্যবস্থা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: