ছবি : সংগৃহীত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা, সড়কের বাম লেনে চলা, প্রশাসনে নিষেধ থাকা রাস্তায় চলাচল বন্ধসহ অন্যান্য নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করে নীতিমালা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট আকারে নীতিমালা জারি করা হয়।
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচলের গতি হবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ কিলোমিটার। আর স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয়, উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকার জন্য সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। অটোরিকশার যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না। আকারভেদে চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই বা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। অটোরিকশার হর্নের শব্দের তীব্রতা ৪০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারবে না।
ব্যাটারি রিকশার কারণে রাস্তায় অনেক যানজটের সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনাও ঘটে। যে কারণ নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, বিআরটি করিডোর, প্রশাসনে নিষেধ করা সড়ক কিংবা ফুটপাথে চলতে পারবে না। আর চলাচলের ক্ষেত্রে সবসময় সড়কের বাম লেন ব্যবহার করতে হবে। অটো চালানোর সময় কোনো ধরনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। এ ছাড়া ওভারটেকিং ও অনিয়ম করে লেন পরিবর্তন করা যাবে না।
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজে নিতে হবে। অন্যভাবে বা অবৈধভাবে চার্জ নিলে তার জন্য শাস্তিÍমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যদি দুর্ঘটনা ঘটায় তা হলে চালককে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামিয়ে আহত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে। ব্যাটারির সুরক্ষার জন্য বলা হয়েছে, অকার্যকর ব্যাটারি খোলা জায়গায়, মাটি কিংবা জলাশয় বা সাধারণ বর্জ্যে ফেলা যাবে না। এমনকি পোড়ানোও যাবে না। নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় বিক্রেতাকে ক্রেতার কাছ থেকে পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করতে হবে। আর এই সংগ্রহ করা ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত কারখানায় পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, সিটি করপোরেশন এলাকাকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে অটোরিকশার সংখ্যা, চলাচলের সড়ক ও নির্দিষ্ট রং নির্ধারণ করা হবে। এক জোনে চলাচলের অনুমতি পাওয়া অটো অন্য জোনে চলতে পারবে না। এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় পার্কিং এলাকা নির্ধারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অটোরিকশার নিবন্ধন নিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, দুই কপি পাসপোট সাইজের সত্যায়িত ছবি, নিবন্ধন ফি জমার রসিদ ও নির্ধারিত ফিটনেস সনদসহ আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই করে সন্তুষ্ট হলে কর্তৃপক্ষ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেবে। প্রতিটি নিবন্ধিত অটোরিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন, নম্বর প্লেট ও বিস্তারিত তথ্য সংবলিত ব্লু বুক দেওয়া হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এর জন্য নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, নিষিদ্ধ সড়কে চলাচল করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি